খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট ২০২৫
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) তার ঐতিহাসিক ভূমিকার জন্য বাংলাদেশের ‘দ্বিতীয় সংসদ’ হিসেবে পরিচিত। ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান এবং নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ডাকসু গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছে।
প্রতিষ্ঠা ও নামকরণ ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরপরই স্যার এ. এফ. রহমানের উদ্যোগে তিনটি আবাসিক হলে ছাত্র সংসদ গঠিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৯২২-২৩ সালে গঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ। শুরুতে এর নাম ‘ডাকসু’ ছিল না। অধ্যাপক আনিসুজ্জমান জানান, ১৯৫৩ সালে নতুন গঠনতন্ত্র অনুমোদনের পর এর নাম হয় ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ’, যার ইংরেজি সংক্ষিপ্ত রূপ ‘ডাকসু’ পরবর্তীতে জনপ্রিয় হয়।
১৯৪৪-৪৫ সালে নতুন গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন হয় এবং ১৯৪৫-৪৬ সালে উপাচার্য পিজে হার্টগ সভাপতি, আহমেদুল কবির সহ-সভাপতি এবং সুধীর দত্ত সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৪৭-৪৮ সালে সহ-সভাপতি হন অরবিন্দ বসু এবং সাধারণ সম্পাদক হন গোলাম আযম। ১৯৫০ সালের পর দীর্ঘ বিরতি ছিল।
ঐতিহাসিক ভূমিকা সৈয়দ আবুল মকসুদের লেখা থেকে জানা যায়, প্রথম দুই দশকে ডাকসু এবং হল সংসদগুলো জ্ঞানচর্চা, আত্ম-উন্নতি ও সমাজসেবামূলক কাজে নিয়োজিত ছিল। তারা সান্ধ্য বিদ্যালয় পরিচালনা, ত্রাণকাজ এবং বিতর্ক সভার আয়োজন করত। নেতারা কোনো রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি না করলেও জাতীয় রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করতেন।
অতীতের নির্বাচন ১৯২৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৩৭ বার ডাকসু নির্বাচন হয়েছে। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে প্রথম ডাকসু নির্বাচনে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম সহ-সভাপতি এবং মাহবুবুর জামান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর সরকারগুলোর অনীহার কারণে ১৯৭১ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত মাত্র ৭ বার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৯১ সালের পর থেকে নির্বাচন বন্ধ হয়ে যায় এবং বারবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। অবশেষে ২০১৯ সালে আদালতের রায়ের পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
এবারের নির্বাচন প্রায় ছয় বছর পর আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবারের নির্বাচনে ২৮টি পদের জন্য মোট ৫০৯টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। মোট ৬৫৮টি মনোনয়নপত্র বিক্রি হলেও ১৪৯টি জমা পড়েনি। এবারের নির্বাচনে অন্তত ৯টি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৫ আগস্ট এবং পরদিন প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।
খবরওয়ালা/টিএসএন