খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
ভারতের বীমা খাত গত কয়েক বছরে দৃঢ়গতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এটি অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি মূলধনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তর হিসেবে পরিণত হয়েছে। তবে অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫-২৬ অনুসারে, এই খাতের অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রণালী “বীমা কোম্পানিগুলোর মূল আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।”
উদাহরণস্বরূপ, ব্যক্তিগত জীবন বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোতে টপলাইন বা রাজস্বের দ্রুত বৃদ্ধি থাকলেও নেট মুনাফা প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। কারণ, মার্জিন সংকুচিত হয়েছে। অপরদিকে, অ-জীবন (নন-লাইফ) খাতের সংযুক্ত অনুপাত বা ‘কম্বাইন্ড রেশিও’ অত্যধিক হওয়ায়, প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের মূল ব্যবসা চালাতে বিনিয়োগ আয়ের উপর নির্ভর করতে হয়। তবে স্টক মার্কেটের ওঠাপড়া এই আয়কে অস্থিতিশীল করে তোলে।
অভ্যন্তরীণ খরচও একটি বড় সমস্যা। অর্থনৈতিক সমীক্ষা উল্লেখ করেছে, “নতুন গ্রাহক অর্জন এবং প্রশাসনিক খরচের বৃদ্ধি উভয় ক্ষেত্রেই অপারেটিং খরচ বৃদ্ধি করেছে।” ডিজিটাল উদ্ভাবন থাকলেও, গ্রাহক অর্জন প্রক্রিয়ায় এখনও ব্যয়বহুল মধ্যস্থতাকারীদের উপর নির্ভরতা রয়েছে। ফলে, প্রিমিয়ামের একটি বড় অংশ বিতরণ ব্যয়ে খরচ হয়। অন্য কথায়, ব্যাংকিং সেক্টরের মতো প্রযুক্তি গ্রহণ বীমা খাত এখনও সঠিকভাবে করতে পারেনি।
সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে বীমা ঘনত্ব (বীমা ঘনত্ব) প্রতি পরিবারের জন্য ৯৭ ডলার হয়েছে। এর মানে, যারা ইতিমধ্যেই বীমা গ্রহণ করেছেন তারা বৃহত্তর সুরক্ষা ও অতিরিক্ত সুবিধার জন্য বেশি প্রিমিয়াম দিয়ে থাকেন। কিন্তু বীমা প্রবর্তনের Penetration মাত্রা ৩.৭% এ থেমে গেছে।
বীমা খাতের মূল চ্যালেঞ্জ
| চ্যালেঞ্জ | প্রভাব |
|---|---|
| উচ্চ গ্রাহক অর্জন ও প্রশাসনিক খরচ | অপারেটিং খরচ বৃদ্ধি, নতুন গ্রাহক অর্জন ব্যাহত |
| প্রযুক্তি গ্রহণের সীমাবদ্ধতা | ডিজিটাল সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব নয় |
| নন-লাইফ বীমার উচ্চ কম্বাইন্ড রেশিও | বিনিয়োগ আয়ের উপর নির্ভরতা, বাজারের অস্থিরতা ঝুঁকি |
| অভ্যন্তরীণ ডেটা সিলো | গ্রাহক পরিষেবা ও ব্যক্তিগতকরণে বাধা |
সমীক্ষা স্পষ্ট করেছে, “উচ্চ বিতরণ খরচ এবং অভ্যন্তরীণ কাঠামো খাতকে নতুন গ্রাহক অর্জনের ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত করছে।” অর্থাৎ, খাতটি বিদ্যমান গ্রাহক থেকে আয় বাড়াতে সক্ষম হলেও, নতুন গ্রাহক যোগ হচ্ছে না। এটি অর্থনীতিতে বীমার বিস্তৃতি সীমিত করছে।
ভবিষ্যতে, খাতের টেকসই বৃদ্ধির জন্য নিম্নলিখিত উদ্যোগ জরুরি:
প্রযুক্তি ও ডিজিটাল টুলের আরও ব্যবহার, বিশেষ করে গ্রাহক অর্জন খরচ কমাতে।
কোর সিস্টেম যেমন ক্লেইমস ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার, পলিসি হোল্ডার পোর্টাল এবং প্রশাসনিক প্রোগ্রাম ক্লাউডভিত্তিক ও আপডেট রাখা।
ডেটা সিলো দূর করে সঠিক গ্রাহক তথ্য ও ব্যক্তিগতকরণ নিশ্চিত করা।
গ্রাহকের কাছে ‘মূল্যের প্রতিফলন’ (অর্থের জন্য মূল্য) ফিরিয়ে আনা, যাতে বীমা গ্রহণ বৃদ্ধি পায়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বীমা খাতের প্রযুক্তি ও মানব সম্পদের সমন্বয় ছাড়া নতুন গ্রাহক আকৃষ্ট করা কঠিন। স্বাস্থ্য বীমা ক্ষেত্রে, দেরিতে ক্ষতিপূরণ প্রদানের কারণে গ্রাহক অভিজ্ঞতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া, প্রতিবন্ধী বা সামাজিকভাবে অসচ্ছলদের জন্য নীতিমালা আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে।
উপসংহারে, খাতটি যদি অভ্যন্তরীণ খরচ কমাতে এবং প্রযুক্তি গ্রহণে দ্রুত পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়, তবে এটি কেবল penetration-density পারাডক্স সমাধান করবে না, বরং ভারতের অর্থনীতির একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই স্তম্ভে পরিণত হবে।