খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 5শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ১৮ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বিশ্বখ্যাত মিউজিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম স্পটিফাই সম্প্রতি পাকিস্তানে তাদের কার্যক্রমের পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘রিওয়াইন্ড’ তালিকা প্রকাশ করেছে। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, টানা পঞ্চম বছরের মতো পাকিস্তানের সর্বাধিক স্ট্রিম হওয়া শিল্পী হিসেবে শীর্ষস্থান দখল করে রেখেছেন প্রখ্যাত হিপ-হপ তারকা তালহা আনজুম। এই অর্জন পাকিস্তানের সংগীত শিল্পে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দেশটিতে স্বাধীন হিপ-হপ ধারার একচ্ছত্র আধিপত্যকে নির্দেশ করে।
তালহা আনজুম মূলত করাচি-ভিত্তিক র্যাপ ডুও ‘ইয়াং স্টানার্স’ (Young Stunners)-এর সদস্য হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তার গানের লিরিক্সে সমসাময়িক সামাজিক বাস্তবতা, আত্মপরিচয় এবং ব্যক্তিগত সংগ্রামের প্রতিফলন পাওয়া যায়। স্পটিফাইয়ের তথ্যমতে, তার জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে ‘গুমান’, ‘আফসানায়’, ‘বাজ’, ‘ডাউনার্স অ্যাট ডাস্ক’ এবং ‘লাম’ উল্লেখযোগ্য। সম্প্রতি প্রকাশিত তার নতুন সিঙ্গেল ‘২এএম ইন লন্ডন’ শ্রোতামহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তার এই দীর্ঘস্থায়ী সাফল্য প্রমাণ করে যে, পাকিস্তানের তরুণ প্রজন্মের কাছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং হিপ-হপ সংস্কৃতি মূলধারার পপ বা শাস্ত্রীয় সংগীতের মতোই শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
স্পটিফাই পাকিস্তান তাদের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে বিগত পাঁচ বছরের শীর্ষ ১০ জন শিল্পীর তালিকা প্রকাশ করেছে। এই তালিকায় কিংবদন্তি শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী থেকে শুরু করে আধুনিক পপ ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট ঘরানার শিল্পীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
| ক্রমিক | শিল্পীর নাম | সংগীতের ধরণ (প্রাথমিক) |
| ১ | তালহা আনজুম | হিপ-হপ / র্যাপ |
| ২ | আতিফ আসলাম | পপ / প্লেব্যাক |
| ৩ | উমাইর | হিপ-হপ প্রোডিউসার |
| ৪ | হাসান রহিম | ইনডি-পপ / আরঅ্যান্ডবি |
| ৫ | নুসরাত ফতেহ আলি খান | কাওয়ালি / সুফি |
| ৬ | তালহা ইউনুস | হিপ-হপ / র্যাপ |
| ৭ | রাহাত ফতেহ আলি খান | সুফি / প্লেব্যাক |
| ৮ | আবদুল হান্নান | ইনডি-পপ |
| ৯ | মানু | পপ / ইলেকট্রনিক |
| ১০ | আসিম আজহার | পপ |
স্পটিফাইয়ের গত পাঁচ বছরের পর্যালোচনা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পাকিস্তানি সংগীত বিশ্বজুড়ে ১৪০টিরও বেশি দেশে ব্যাপকভাবে স্ট্রিম হয়েছে। গত এক বছরে পাকিস্তানি শিল্পীদের গানের চাহিদা এবং শ্রোতাদের সম্পৃক্ততা অভাবনীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তালিকায় থাকা আতিফ আসলাম, নুসরাত ফতেহ আলি খান এবং রাহাত ফতেহ আলি খানের মতো শিল্পীরা প্রমাণ করেছেন যে, ধ্রুপদী এবং মেলোডিয়াস সংগীতের আবেদন এখনো অমলিন।
অন্যদিকে, বিগত পাঁচ বছরে যে গানগুলো স্ট্রিমিং চার্টে রাজত্ব করেছে তার একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
ঝোল (Jhol)
পাল পাল (Pal Pal)
উইশেস (Wishes)
বিখরা (Bikhra)
মান্দ (Maand)
তু হ্যায় কাহাঁ (Tu Hai Kahan)
ইরাদায় (Iraaday)
কাহানি শুনো (Kahani Suno)
নাহি মিলতা (Nahi Milta)
পাসুরি (Pasoori)
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্পটিফাইয়ের এই তথ্য পাকিস্তানের সংগীত শিল্পের আমূল পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরে। আগে যেখানে চলচ্চিত্র বা নাটকের প্লেব্যাকই ছিল জনপ্রিয়তার প্রধান মাপকাঠি, বর্তমানে সেখানে স্বাধীন শিল্পী বা ইনডিপেনডেন্ট আর্টিস্টরা স্ট্রিমিং ডেটার মাধ্যমে সরাসরি শ্রোতাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন। বিশেষ করে তালহা আনজুম এবং তালহা ইউনুসের মতো র্যাপারদের সাফল্য পাকিস্তানের উদীয়মান সংগীতশিল্পীদের জন্য নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে। স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের এই তথ্যানুযায়ী, গ্লোবাল চার্টেও পাকিস্তানি গানগুলো বর্তমানে আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে রয়েছে।