খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২০ মে ২০২৬
রাজধানী ঢাকার ডেমরা এলাকায় ৬ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ২০ মে বুধবার, অভিযুক্ত কিশোরকে আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ বিচারক তাকে কিশোর শোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন। এর আগে, গত ১৯ মে মঙ্গলবার রাতে ডেমরার বাঁশেরপুল আমিনবাগ এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। অভিযুক্ত কিশোর তার পরিবারের সাথে স্থানীয় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করত।
মামলার বিবরণ এবং পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পূর্বপরিচয়ের সুবাদে ভুক্তভোগী শিশু এবং তার ভাই প্রায়ই অভিযুক্ত কিশোরের ঘরে আসা-যাওয়া করত। গত ১৮ মে রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে অভিযুক্ত কিশোর লিচু খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে ওই শিশু এবং তার ভাইকে নিজের ঘরে নিয়ে যায়। ঘরে নেওয়ার পর সে সুকৌশলে শিশুটির ভাইকে অন্য একটি কক্ষে খেলনা দিয়ে ব্যস্ত রেখে দেয়। এই সুযোগে অভিযুক্ত কিশোর শিশুটিকে আলাদা একটি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করে।
নির্যাতনের এক পর্যায়ে শিশুটি চিৎকার ও কান্নাকাটি শুরু করলে পার্শ্ববর্তী কক্ষ থেকে তার ভাই ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। সেখানে সে অভিযুক্ত কিশোরকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পায়। ভাই-বোনের সম্মিলিত কান্নার শব্দ শুনতে পেয়ে তাদের মা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং নিজ কন্যাকে উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে মায়ের কাছে শিশুটি ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করে।
ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ১৯ মে মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে ডেমরা থানায় অভিযুক্ত কিশোরের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করে। ধর্ষণের শিকার শিশুটি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে ডেমরা থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। বর্তমানে শিশুটি হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন রয়েছে। সেখানে তার প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষা ও চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।
ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির্জা তাইফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পরদিন ১৯ মে মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত কিশোরকে এলাকায় দেখতে পেয়ে আটক করে এবং মারধর করে। খবর পেয়ে ডেমরা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে। উদ্ধারের পর তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে ডেমরা থানায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃত কিশোরের বয়স ১৭ বছর হওয়ায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাকে প্রাপ্তবয়স্কদের কারাগারে না পাঠিয়ে, ২০ মে বুধবার আদালতের নির্দেশে কিশোর শোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনি কার্যক্রম যথাযথভাবে চালিয়ে যাচ্ছে।