খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
অধ্যাপক সিদ্দিকা কবীর ছিলেন বাংলাদেশের একজন অগ্রগণ্য পুষ্টি বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও রন্ধনবিষয়ক লেখক। পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও পারিবারিক জীবনব্যবস্থাকে সহজ ও বিজ্ঞানসম্মত করে উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান আজও অনন্য। বিশেষ করে তাঁর লেখা রান্না ও পুষ্টিবিষয়ক গ্রন্থগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্মের ঘরে ঘরে ব্যবহার হয়েছে—যা তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে ভীষণভাবে জনপ্রিয় করে তোলে।
তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩৫ সালের ৭ মে, পুরান ঢাকার মকিম বাজারে। তাঁর পিতা মৌলভি আহমেদুল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক এবং পরবর্তীতে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন। মাতা সৈয়দা হাসিনা খাতুন ছিলেন গৃহিণী। শিক্ষিত ও সংস্কৃতিমনা এই পরিবারিক পরিবেশ তাঁর চিন্তা ও মানসগঠনে গভীর প্রভাব ফেলে।
১৯৭২ সালের নভেম্বর মাসে তিনি ব্যাংকার সৈয়দ আলী কবীর-এর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
শিক্ষাজীবনের শুরুতে তিনি ইডেন কলেজে অধ্যয়ন করেন। সেখান থেকে বিজ্ঞান বিভাগে প্রথম বিভাগে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে ভর্তি হন এবং স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষে অধ্যয়নকালেই তিনি মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব সময়ে তৎকালীন পাকিস্তান রেডিও (বর্তমান বাংলাদেশ বেতার)-এ ঘোষক হিসেবে খণ্ডকালীন চাকরিতে যুক্ত হন—যা তাঁর বহুমাত্রিক প্রতিভার পরিচয় বহন করে।
স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি প্রথমে ভিকারুননিসা নুন স্কুলে শিক্ষিকা হিসেবে এবং পরে ইডেন কলেজে গণিতের প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা করেন।
উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ফোর্ড ফাউন্ডেশনের বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং ১৯৬৩ সালে ওকলাহোমা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞানে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। দেশে ফিরে এসে তিনি তাঁর অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দেশের মানুষের কল্যাণে কাজে লাগান।
পরবর্তীতে তিনি আজিমপুর গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন এবং দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের পর ১৯৯৩ সালে অবসর গ্রহণ করেন। শিক্ষকতা ও লেখালেখির পাশাপাশি তিনি নারীর স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সচেতনতা গড়ে তোলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
এই গুণী মানুষটি ২০১২ সালের ৩১ জানুয়ারি, রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।
তাঁর লেখা, শিক্ষা ও চিন্তা আজও আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আলোর দিশা হয়ে আছে।
শ্রদ্ধাঞ্জলি।