চীনের দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলে বন্যা ও ভূমিধসে ২১ জন নিহত
খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২০ মে ২০২৬
চীনের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষতি, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং জনজীবনে চরম বিঘ্ন ঘটেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১৯ মে) পর্যন্ত পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকায় উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা হয় এবং একাধিক এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশনের (সিসিটিভি) প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা প্লাবিত এলাকা থেকে আটকে পড়া মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
দুর্যোগের কারণে বহু এলাকায় স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং কিছু অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
চীনের আবহাওয়া প্রশাসন জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতজনিত দুর্যোগের ঝুঁকি এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১৫ কোটি ইউয়ান অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। এই অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার, ত্রাণ এবং অবকাঠামো পুনর্গঠনে ব্যবহৃত হবে বলে জানানো হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগর, দক্ষিণ চীন সাগর এবং প্রশান্ত মহাসাগর থেকে আসা আর্দ্র বাতাস একত্রিত হয়ে প্রায় এক হাজার কিলোমিটারজুড়ে এই ভারী বৃষ্টিপাত সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই আবহাওয়াগত পরিস্থিতি অঞ্চলটিতে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে নতুন করে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যায়।
দুর্যোগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে কাজ চলছে বলে জানানো হয়েছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি সেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।