খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উত্তর জোনের উপকমিশনার (ডিসি) আমিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নারী কর্মীর গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর আগে সাংবাদিকদের মারধরের অভিযোগে আলোচনায় আসা এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নতুন করে এই অভিযোগ ঘিরে নগরজুড়ে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) বেলা পৌনে ২টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের টাইগারপাস এলাকায় শহীদ ওয়াসিম আকরাম এক্সপ্রেসওয়ের পিলারে গ্রাফিতি আঁকাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এনসিপি নেতা-কর্মীরা সেখানে গ্রাফিতি আঁকার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে এনসিপি কর্মীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও উত্তেজনা তৈরি হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলাকালে ডিসি আমিরুল ইসলাম এনসিপির নারী কর্মী নুসরাত আক্তারকে সরিয়ে দিতে গিয়ে তার গায়ে হাত দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এনসিপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারা ঘটনাটিকে অপ্রীতিকর আচরণ হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিবাদ জানান।
এর আগে রোববার (১৭ মে) সন্ধ্যায় একই এলাকায় এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর শাখার নেতা-কর্মীরা ‘জুলাই গ্রাফিতি অঙ্কন’ কর্মসূচি পালন করেন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্দেশে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট গ্রাফিতি মুছে ফেলা হচ্ছে। এ নিয়ে সিটি মেয়র ও নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধেও তারা অভিযোগ করেন।
পরবর্তীতে সোমবার সকালে সিএমপি নগরের জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত সড়ক ও আশপাশ এলাকায় সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এই নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দুপুরে এনসিপি নেতা-কর্মীরা টাইগারপাস এলাকায় পুনরায় গ্রাফিতি আঁকার উদ্যোগ নিলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ডিসি আমিরুল ইসলাম বলেন, তিনি কাউকে গায়ে হাত দেননি এবং তরুণীদের নিরাপত্তার স্বার্থে কেবল কর্ডন করে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
অন্যদিকে এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের সদস্যসচিব আরিফ মঈনুদ্দিন দাবি করেন, তাদের কর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে গ্রাফিতি আঁকছিলেন। পুলিশের বাধার সময় ধস্তাধস্তির মধ্যে ডিসি আমিরুল ইসলাম তাদের কর্মী নুসরাত আক্তারের গায়ে হাত দিয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এর আগে গত বছরের ১২ অক্টোবর সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগেও ডিসি আমিরুল ইসলাম আলোচনায় আসেন। সে সময় চট্টগ্রামের খুলশী থানায় যমুনা টেলিভিশনের রিপোর্টার জোবায়েদ ইবনে শাহাদাত ও ক্যামেরাপারসন আসাদুজ্জামান লিমনকে মারধরের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে তৎকালীন সিএমপি কমিশনার তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় অতিরিক্ত কমিশনার মো. হুমায়ুন কবিরকে। তবে সেই তদন্তের ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি বলে জানা যায়।
সর্বশেষ এই ঘটনার পর এনসিপি কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে নগরজুড়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে।