খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 30শে ভাদ্র ১৪৩২ | ১৪ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে একটি ছাত্র সংগঠনের জয় কোনো ‘মাস্টারপ্ল্যানের’ অংশ কি না—এ প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ‘যেদিন ভোট, সেদিন ভোটার তৈরি করা হচ্ছে। হাতে লিখে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যালট দেওয়া হয়েছে—এগুলো কী অনিয়ম নয়? বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের একটি মেকানিজম কাজ করেছে, যাতে একটি ছাত্র সংগঠনকে বিজয়ী করা যায়।’
তিনি অভিযোগ করেন, জাহাঙ্গীরনগরে ব্যালট বই ও ব্যালট পেপার ছাপানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল একটি ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানে। ‘যার মালিকের সঙ্গে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক প্রমাণিত হয়েছে।’ রিজভীর দাবি, ঠিক একইভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও ব্যালট ছাপানো হয়েছে একটি প্রাইভেট প্রেস থেকে, যেখানে কোনো নম্বর ছিল না—যা ‘রহস্যজনক’।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ–রাকসুর সাবেক ভিপি রিজভী বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী শক্তিকে টার্গেট করে রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মিলে কোনো গভীর নীলনকশা করছে কি না, তা আজ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগাচ্ছে। আমরা আওয়ামী লীগকে তাড়িয়েছি, এখন এদের (বিএনপি) ঘায়েল করার জন্য কোনো মাস্টারপ্ল্যান তৈরি হচ্ছে কি না, তা ভাবাচ্ছে সবাইকে।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এটা গণতন্ত্রের জন্যও বিপজ্জনক, মানুষের ধর্মীয় চেতনার জন্যও বিপজ্জনক। এখানে মানুষ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, আবার নাটক দেখে, নজরুল-রবীন্দ্রসংগীত শোনে। কিন্তু সমাজকে একপাক্ষিক করা হলে সেটা নতুন ধরনের ফ্যাসিবাদের রূপ নেবে। ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত রূপ হলো উগ্র সাম্প্রদায়িকতা ও উগ্র ধর্মীয় রাজনীতি—এটা এলে সর্বনাশ হবে।’
ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১৮তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির বেশিরভাগ পদে জয়ী হয়। এর তিন দিন পর, ১২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনেও শিবির জয়লাভ করে।
রিজভী বলেন, ‘গণতন্ত্রে ছাত্রসমাজের ইচ্ছার প্রতিফলন আমরা মানি। কিন্তু ফলাফল ঘিরে যদি কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং হয়, সেটা ধরা পড়বেই—যা ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগরে হয়েছে।’
তিনি ভাইস চ্যান্সেলারের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিচ্ছিন্ন কোনো দেশ বানানোর চেষ্টা হয়েছে। ‘ভাইস চ্যান্সেলর সরকারের কিছু মানুষের সঙ্গে মিলে হাত-পা বেঁধে একচেটিয়া নির্বাচন করার চেষ্টা করেছেন, যাতে একচেটিয়া ফলাফল তৈরি করা যায়।’
ছাত্রশিবিরের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘ওদের ভণ্ডামি জনগণের সামনে উন্মোচিত হয়েছে। যারা একসময় ছাত্রলীগের নেতা সেজে হেলমেট পরে ছাত্রদল ও অন্য সংগঠনের কর্মীদের আঘাত করেছে, শেখ হাসিনার পতনের পর তারা নিজেদের শিবির পরিচয় প্রকাশ করেছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, শিবির গোপনে প্রচার চালাচ্ছে যে বিএনপি চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত। এ বিষয়ে রিজভী বলেন, ‘বৃহত্তর দলে দুষ্টচক্র থাকতে পারে। দল যদি ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে সেটা দলের দোষ। কিন্তু ব্যবস্থা নিলে দল সঠিক পথে আছে। যেমন একটি পরিবারের সন্তান বিপথগামী হলে পরিবার যদি তাকে শাস্তি দেয়, সেটা সঠিক সিদ্ধান্ত হয়। অথচ কিছু গণমাধ্যম শিবিরের সঙ্গে মিলে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’
খবরওয়ালা/এন