খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ই আগস্ট ২০২৬, ২:৪৩ পিএম
রাজধানী ঢাকায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অপরাধবিরোধী অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় রাজধানীর বিভিন্ন থানায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মোট ৪৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযানে অস্ত্র, গুলি, মাদকদ্রব্যসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার (১৬ আগস্ট) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য জানান। ডিএমপির বিভিন্ন বিভাগ ও গোয়েন্দা শাখা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব গ্রেপ্তার ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে।
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের সংখ্যায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে মিরপুর বিভাগ। এ বিভাগ থেকে ১২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপর তেজগাঁও বিভাগে ৭২ জন, উত্তরা বিভাগে ৬৭ জন এবং মতিঝিল বিভাগে ৬২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওয়ারী বিভাগে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৫১ জন, গুলশান বিভাগে ৫০ জন এবং রমনা বিভাগে ৩৯ জন। লালবাগ বিভাগ থেকে ৩৩ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগ থেকে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিযানে উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে দুটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন ও ১৫ রাউন্ড গুলি। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যও জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ৪০৩ পিস ইয়াবা, ৯৮ কেজি ৫৬৫ গ্রাম গাঁজা, এক গ্রাম হেরোইন এবং চার বোতল বিদেশি মদ।
শুধু অস্ত্র ও মাদক নয়, অভিযানে অপরাধ তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে—এমন বিভিন্ন সামগ্রীও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি। এর মধ্যে রয়েছে একটি কম্পিউটার, ছয়টি মোবাইল ফোন, বিভিন্ন অপারেটরের ৮০টি সিমকার্ড এবং সাতটি ব্যাংকের এটিএম কার্ড।
গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে রাজধানীর নয়টি পুলিশ বিভাগ ও গোয়েন্দা বিভাগের তথ্য আলাদাভাবে প্রকাশ করেছে ডিএমপি। সংখ্যার হিসাবে মিরপুর বিভাগে সর্বোচ্চ এবং গোয়েন্দা বিভাগে সর্বনিম্ন গ্রেপ্তার হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত এসব অভিযানের মাধ্যমে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
রাজধানীতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবেই এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। বিভিন্ন থানার আওতাধীন এলাকায় অভিযান চালানোর সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ঘটনাস্থল বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
ডিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। উদ্ধার করা অস্ত্র, মাদকদ্রব্য, মোবাইল ফোন, সিমকার্ড, এটিএম কার্ড ও অন্যান্য সামগ্রী সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তে আলামত হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে এসব ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের দোষী হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একযোগে পরিচালিত এই অভিযানে বিপুলসংখ্যক গ্রেপ্তার ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধারের তথ্য দিয়েছে ডিএমপি। পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকায় এসব মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমের ওপরই এখন নজর থাকবে।
মন্তব্য