খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ই আগস্ট ২০২৬, ২:৪৮ পিএম
ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১১৩ জন। আহতদের মধ্যে ৩৬ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। বাকি ৭৭ জন সামান্য আহত হয়েছেন। ভূমিকম্পের পর ভূমিধস, সড়ক ধসে পড়া এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
শনিবার সকালে পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। মূল কম্পনের পর সেখানে প্রায় ৩৪১টি আফটারশক অনুভূত হয়েছে। বারবার কম্পন অনুভূত হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। অনেকেই নিরাপত্তার জন্য বাড়িঘর ছেড়ে খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রায় ৫ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে সিক্কা অন্যতম। সেখানে ৩ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিজেদের উদ্যোগে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ স্থানে সরে গেছেন। বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কিংবা নতুন করে ভূমিকম্পের আশঙ্কায় বহু বাসিন্দা ঘরে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না। কেউ বারান্দায়, কেউ খোলা জায়গায় আবার কেউ ত্রিপল দিয়ে তৈরি অস্থায়ী তাঁবুতে রাত কাটাচ্ছেন।
মাউমেরে শহরের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। আহত মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালের বাইরেও তাঁবু স্থাপন করে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জরুরি চিকিৎসাসেবা চালু রাখতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বাড়তি চাপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। ভূমিকম্পে আহতদের পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
প্রাথমিক হিসাবে ভূমিকম্পে ১ হাজার ৩০০টির বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। ধসে পড়া ভবন ও স্থাপনার নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে উদ্ধারকারী দলগুলো জীবিতদের সন্ধানে তৎপরতা চালাচ্ছে।
উদ্ধারকাজের সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি হয়ে দাঁড়িয়েছে ভূমিধস। বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ি মাটি ও ধ্বংসাবশেষ সড়কের ওপর পড়ে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং ত্রাণসামগ্রী দুর্গত এলাকায় পৌঁছে দিতে সমস্যা হচ্ছে। দুর্গম এলাকাগুলোতে পৌঁছাতে সময় বেশি লাগায় উদ্ধার অভিযানও ধীর হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৩ হাজার ৫০০-এর বেশি সেনা ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। উদ্ধার, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কাজে তারা যুক্ত রয়েছেন। একই সঙ্গে ধ্বংসস্তূপ সরানো, সড়ক যোগাযোগ পুনরুদ্ধার এবং দুর্গত মানুষের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করাও জরুরি হয়ে উঠেছে।
ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাতেও। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেরটামিনার ২০টি পেট্রোল স্টেশন বন্ধ রয়েছে। এতে দুর্গত এলাকায় জ্বালানি সরবরাহ ও জরুরি যানবাহন পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
ক্রমাগত আফটারশকের কারণে উদ্ধারকারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রেও ঝুঁকি রয়েছে। উদ্ধার অভিযান এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নিরাপদ আশ্রয়, চিকিৎসা, খাদ্য, পানি, বিদ্যুৎ এবং যোগাযোগব্যবস্থা দ্রুত পুনঃস্থাপন এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ব্যাপক মানবিক সহায়তা ও সমন্বিত উদ্ধার তৎপরতা প্রয়োজন হবে।
মন্তব্য