খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ই আগস্ট ২০২৬, ২:৫৭ পিএম
দুই ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার জানাজা ও দাফনে অংশ নিয়েছেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নাটোর জেলা শাখার সাবেক সভাপতি রাকিবুল ইসলাম। শনিবার রাতে বাবার জানাজা ও দাফন শেষ হওয়ার পর পুলিশি পাহারায় তাঁকে আবার নাটোর কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
নাটোর সদর থানা সূত্রে জানা গেছে, একটি রাজনৈতিক মামলায় গত ২২ জুন গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে রাকিবুল ইসলাম কারাগারে রয়েছেন। কারাবন্দি অবস্থায় শনিবার দুপুরে তাঁর বাবা আবুল কালাম আজাদ নাটোর শহরের হাজীপাড়া মহল্লায় নিজ বাড়িতে মারা যান। বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর জানাজা ও দাফনে অংশ নেওয়ার সুযোগ চেয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করা হয়।
পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাকিবুলকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তির অনুমতি দেওয়া হয়। পরে শনিবার রাত ৮টার দিকে পুলিশি পাহারায় তাঁকে শহরের বড়গাছা এলাকার বুড়া দরগা মসজিদ মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই আবুল কালাম আজাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজার আগে বাবার মরদেহের কাছে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রাকিবুল। স্বজনদের উপস্থিতিতে তিনি মরদেহ স্পর্শ করেন এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন। দীর্ঘদিন পর কারাগারের বাইরে এলেও সেই সময়টি ছিল তাঁর জন্য স্বাভাবিক কোনো পারিবারিক সাক্ষাতের মুহূর্ত নয়; বরং বাবার শেষ বিদায়ে অংশ নেওয়ার সীমিত সুযোগ।
জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে বাবার দাফনেও অংশ নেন তিনি। পরিবারের সদস্য ও উপস্থিত স্বজনদের সঙ্গে কিছু সময় কাটানোর পর নির্ধারিত সময় শেষ হলে আবার পুলিশি পাহারায় তাঁকে কারাগারের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনসুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বাবার দাফন শেষ হওয়ার পর রাত ১০টার দিকে পুলিশি পাহারায় রাকিবুল ইসলামকে নাটোর কারাগারে ফেরত নেওয়া হয়।
কারাবন্দি কোনো ব্যক্তিকে পারিবারিক বা ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে সীমিত সময়ের জন্য অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে সাধারণত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়। রাকিবুল ইসলামের ক্ষেত্রেও পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে অনুমোদন পাওয়ার পর তাঁকে পুলিশি পাহারায় জানাজা ও দাফনস্থলে নেওয়া হয়। নির্ধারিত সময় শেষে তাঁকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়।
বাবার মৃত্যুর মতো কঠিন সময়ে পরিবারের পাশে থাকার সুযোগটি রাকিবুলের জন্য ছিল অত্যন্ত সীমিত। মাত্র কয়েক ঘণ্টার সেই উপস্থিতির পর তাঁকে আবার কারাগারে ফিরতে হয়েছে। ফলে স্বজনদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের সময়টিও শেষ হয়েছে বাবার শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার মধ্য দিয়েই।
মন্তব্য