খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
সিরাজগঞ্জে ডিবি পুলিশের হেফাজতে থাকা এক হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামি শাহাদত হোসেন মুকুল (৪৫) অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। পুলিশ জানাচ্ছে, তার মৃত্যু শ্বাসকষ্টের কারণে হয়েছে, তবে পরিবার পুলিশকে নির্যাতনের দায়ে অভিযুক্ত করেছে।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। শাহাদত সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর গ্রামের মৃত খলিল হোসেনের ছেলে।
সিরাজগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিকুর রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উল্লাপাড়ায় মিশুক চালক আমিনুল হত্যা মামলায় প্রাথমিক তদন্তে শাহাদত হোসেনের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। শুক্রবার সকালে শহরের বাজার স্টেশন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে নিহত আমিনুলের লুট হওয়া মিশুকের ব্যাটারিও উদ্ধার হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় বিকেলে শাহাদত শ্বাসকষ্টজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ১১ নভেম্বর আমিনুলকে কৌশলে উল্লাপাড়ার দিকে নিয়ে যায় অজ্ঞাতনামা আসামিরা, তারপর হত্যা করে চৌকিদহ ব্রিজের নিচে ফেলে তার মিশুক গাড়ি নিয়ে যায়। নিহত আমিনুল ছিলেন সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার চর মালশাপাড়া গ্রামের আয়নাল শেখের ছেলে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক হিমাদ্রি শেখর জানান, পুলিশ হাসপাতালে শাহাদত হোসেনকে ভর্তি করলে তার হাত ও পায়ে ক্ষতচিহ্ন ছিল। পুলিশ সদস্য সেটি পাবলিক অ্যাসল্ট বলেছে। হাসপাতালের ভর্তি হওয়ার কিছুক্ষণ পরই হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান তিনি।
সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আকিকুন নাহার মনি বলেন, রোগীর হিস্ট্রিতে পাবলিক অ্যাসল্ট উল্লেখ আছে। শরীরে আঘাতের চিহ্নও দেখা গেছে। তিনি শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছিলেন। ময়নাতদন্তে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। শনিবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে ময়নাতদন্ত করা হবে।
মৃত শাহাদতের বড় ভাই জহুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ডিবি পুলিশ তার ভাইকে গ্রেপ্তার করে ৫ লাখ টাকা দাবি করেছিল। তিনি বলেন, ‘মারধর ও নির্যাতনের কারণে আমার ভাই মারা গেছে।’
নিহত আমিনুলের চাচাতো ভাই মো. আলেক শেখ জানান, শহরের মধ্যে চলা আমিনুলকে কৌশলে উল্লাপাড়ায় নিয়ে হত্যা করা হয়।
ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ডিবি অফিসে কোনো আসামিকে নির্যাতন করা হয় না। গ্রেপ্তারের সময় দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করার সময় আঘাত লেগেছে এবং স্থানীয় জনসাধারণও তাকে মারপিট করেছে।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মাহবুবুর রহমান জানান, এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।
উল্লাপাড়া মডেল থানার ওসি মো. একরামুল হোসেন বলেন, ১২ নভেম্বর চৌকিদহ সেতুর নিচ থেকে আমিনুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার বাবা আয়নাল শেখ বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলাটি বর্তমানে ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন