খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
কৃষ্ণসাগরে এমটি কায়রোস ট্যাংকারে ইউক্রেনের নৌবাহিনীর ড্রোন হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছেন চার বাংলাদেশি নাবিক। জাহাজটির চতুর্থ প্রকৌশলী নরসিংদীর মাহফুজুল ইসলাম জানান, হঠাৎ পরপর বিস্ফোরণে জাহাজে আগুন ধরে যায়। তেল ছড়িয়ে পড়ায় লাইফবোটও পুড়ে যায়। প্রচণ্ড ঠান্ডা আর পানিতে আগুন থাকায় সাগরে ঝাঁপ দেওয়ার সুযোগও ছিল না।
গত শুক্রবার তুরস্কের উপকূলে কৃষ্ণসাগর অতিক্রমের সময় দুটি ট্যাংকারে হামলা চালায় ইউক্রেন। এর একটি ছিল এমটি কায়রোস, যেখানে ২৫ নাবিকের মধ্যে চারজন ছিলেন বাংলাদেশি—মাহফুজুল ইসলাম, কুষ্টিয়ার আল আমিন, ঢাকার হাবিবুর রহমান ও চট্টগ্রামের আজগর হোসাইন। সবাই চিকিৎসা নিয়ে এখন তুরস্কের একটি হোটেলে আছেন।
মাহফুজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৪৬ মিনিটে প্রথম প্রপেলারে ড্রোন আঘাত হানে। তীব্র ঝাঁকুনিতে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। দশ মিনিট পর দ্বিতীয় ড্রোন আক্রমণে জাহাজের জ্বালানি অংশে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ে। জাহাজে তখন ১ হাজার ১৬৩ টন জ্বালানি ছিল।
তুরস্কের কোস্টগার্ডকে খবর দেওয়া হলেও তাদের পৌঁছাতে সময় লাগবে বলে জানানো হয়। একটি বাণিজ্যিক জাহাজ লাইফবোট পাঠিয়েও উদ্ধার সম্ভব হয়নি। এতে নাবিকেরা জীবনহানির আশঙ্কায় বিদায় জানাতে শুরু করেছিলেন বলে জানান আল আমিন ও হাবিবুর রহমান।
চট্টগ্রামের আজগর হোসাইন বলেন, তিনটি দ্রুতগতির নৌযান দেখতে পেলেও পরে বুঝেছেন সেগুলো ড্রোন। তীব্র ঠান্ডা আর আগুনের কারণে পানিতে নামা অসম্ভব ছিল। শেষ পর্যন্ত তুরস্কের কোস্টগার্ড তাঁদের উদ্ধার করে।
বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন জানায়, হামলার পরপরই আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। জাহাজ মালিকপক্ষ ও তুরস্ক কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়েছে। এর আগে ২০২২ সালে ইউক্রেনে ‘বাংলার সমৃদ্ধি’ জাহাজে রাশিয়ার হামলায় একজন বাংলাদেশি প্রকৌশলী নিহত হন।
খবরওয়ালা/টিএসএন