খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১১ জুন ২০২৫
‘কিংস চার্লস হারমনি অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণের লক্ষ্যে চার দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন বাংলাদেশ সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সফরের আগে সরকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, এ সফরটি রাষ্ট্রীয় মর্যাদার এবং এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে গণতান্ত্রিক উত্তরণে যুক্তরাজ্যের সমর্থন এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া। তবে সফরের শুরু থেকেই নানা বিতর্ক ও বিভ্রান্তি ঘিরে ফেলেছে এই সফরকে।
ড. ইউনূসের যুক্তরাজ্যে আগমনকে কেন্দ্র করে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাতে বাংলাদেশ হাই কমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকলেও, যুক্তরাজ্য সরকারের বা রাজপরিবারের কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না। কূটনৈতিক প্রথা অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্রীয় সফরে অতিথিকে অভ্যর্থনা জানাতে স্বাগতিক রাষ্ট্রের প্রতিনিধির উপস্থিত থাকা প্রত্যাশিত। এ অনুপস্থিতি প্রশ্ন তুলেছে সফরের প্রকৃত কূটনৈতিক গুরুত্ব নিয়ে।
সফরের সূচিতে বলা হয়েছিল, ড. ইউনূস যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। কিন্তু ৩০ জুন বিকেলে বাংলাদেশ হাই কমিশনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম দাবি করেন, কিয়ার স্টারমার তখন কানাডায় থাকায় বৈঠক এখনো নির্ধারিত হয়নি।
তবে পরবর্তীতে স্পষ্ট হয়—ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী সেই সময় যুক্তরাজ্যেই ছিলেন এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছিলেন, যার মধ্যে ছিল স্মৃতি উদ্যান প্রকল্পের ঘোষণা, নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপ এবং সাইজওয়েল সি পারমাণবিক প্রকল্পে বিশাল বিনিয়োগ ঘোষণাসহ ‘লন্ডন টেক উইক’-এর উদ্বোধন। ফলে কিয়ের স্টারমারকে নিয়ে প্রেস সচিবের মন্তব্যের যথার্থতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
যুক্তরাজ্যে পা রাখার পরপরই লন্ডনে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নেন প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি অংশ। বিক্ষোভকারীদের দাবি, তার বিরুদ্ধে দেশে চলমান দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের মামলাগুলোর বিচার হওয়া উচিত। এই বিক্ষোভে সফরের ইতিবাচক প্রভাব অনেকটাই স্তিমিত হয়ে পড়ে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ব্রিটিশ এমপি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিক ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য সরকারকে সতর্ক করে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লেও, প্রথমে প্রেস সচিব তা অস্বীকার করেন। কিন্তু গতকাল সাংবাদিকদের সামনে সেই চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, বিষয়টি ‘আইনি’ এবং আইনি প্রক্রিয়ায় এর জবাব দেওয়া হবে।
সফরের ঘোষণা ছিল ‘সরকারি’, কিন্তু এ পর্যন্ত ড. ইউনূস যেসব সাক্ষাৎ ও বৈঠকে অংশ নিয়েছেন, তার কোনোটিই সরকারি পর্যায়ের নয়। এখন পর্যন্ত এগুলো ব্যক্তিগত, সম্মানসূচক কিংবা থিঙ্ক ট্যাংক আয়োজিত সংলাপের পর্যায়ে রয়ে গেছে। এমন বাস্তবতায় এ সফরের প্রকৃতি ও কূটনৈতিক অর্জন নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
যে সফরটির মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র, বৈদেশিক সম্পর্ক ও অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে অগ্রগতি আশা করা হয়েছিল, সেটি নানা ভুল বার্তা, ভুল সমন্বয় এবং জনমত-সংবেদনশীল বিষয় উপেক্ষার কারণে বিতর্কে পরিণত হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার সফর শেষ পর্যন্ত কী বার্তা দেয়—তা সময়ই বলে দেবে।
খবরওয়ালা/এমএজেড