খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
ইরানে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজারে, যেখানে পেট্রোল ও গ্যাসোলিনের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে। ভোক্তা পর্যায়ে ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটির অর্থনীতিতেও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ দশমিক ১৮ ডলার, যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে সর্বশেষ ২০২২ সালের শুরুর দিকে, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত শুরু হওয়ার পর জ্বালানি তেলের বাজারে বড় অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল। তখন দাম ৪ ডলারের ওপরে উঠে গিয়েছিল এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রায় ৪ দশমিক ১৫ ডলারে পৌঁছেছিল।
এক বছর আগের তুলনায় পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন। তখন গ্যাসোলিনের গড় দাম ছিল প্রায় ৩ দশমিক ১৫ ডলার, যা বর্তমান দামের তুলনায় অনেক কম। ফলে এক বছরের ব্যবধানে ভোক্তাদের জ্বালানি ব্যয় স্পষ্টভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে জ্বালানির দামে বড় ধরনের পার্থক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উৎপাদন ও পরিশোধন সুবিধা থাকা অঞ্চলে দাম তুলনামূলক কম হলেও, পরিবহন ব্যয় ও সরবরাহ ঘাটতির কারণে কিছু রাজ্যে দাম অনেক বেশি।
| অঙ্গরাজ্য | প্রতি গ্যালন গড় দাম (ডলার) |
|---|---|
| টেক্সাস | ৩ দশমিক ৭৮ |
| ক্যালিফোর্নিয়া | ৫ দশমিক ৯৬ |
| জাতীয় গড় | ৪ দশমিক ১৮ |
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ, সেখানে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হলে তা দ্রুত বৈশ্বিক বাজারে প্রভাব ফেলে।
সংঘাত শুরুর আগে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২০ থেকে ১৪০টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা উদ্বেগ ও ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণে এই সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে প্রতিদিন মাত্র ৮ থেকে ১০টি জাহাজে নেমে এসেছে।
এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে আরও সংকট তৈরি হতে পারে এবং দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন। ভোক্তা পর্যায়ে এর প্রভাব অব্যাহত থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পরিবহন খরচও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।