খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ মে ২০২৫
তামাকজাত পণ্য সহজলভ্য হওয়ায় বাংলাদেশে তরুণ ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সিগারেটের সহজলভ্যতা কমাতে কার্যকর করারোপ ও মূল্যবৃদ্ধির বিকল্প নেই বলে মনে করছেন দেশের ছাত্র ও তরুণ সমাজ। তারা আসন্ন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে সিগারেটের বর্তমান চারটি মূল্যস্তর কমিয়ে তিনটি করা এবং কর ও মূল্য বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।
শুক্রবার (২৩ মে ২০২৫) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া এভিনিউতে আয়োজিত এক ছাত্র-তরুণ সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়। সমাবেশের আয়োজন করে আহছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িং।
সমাবেশে অংশ নেওয়া ছাত্র ও তরুণেরা বলেন, সিগারেটের চার স্তরের মূল্যব্যবস্থা—নিম্ন, মধ্যম, উচ্চ ও প্রিমিয়াম—তামাক করনীতিকে দুর্বল করছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের দামের ব্যবধান কম হওয়ায় ভোক্তারা সহজেই এক স্তর থেকে অন্য স্তরে চলে যেতে পারছেন। এই পরিস্থিতিতে নিম্ন ও মধ্যম স্তর একত্র করে দাম বাড়ানো হলে দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও তরুণ প্রজন্ম ধূমপান থেকে বিরত থাকবে, পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।
তারা প্রস্তাব করেন, নিম্ন ও মধ্যম স্তর একত্র করে প্রতি ১০ শলাকার সিগারেটের খুচরা মূল্য ৯০ টাকা নির্ধারণ করা হোক। উচ্চ স্তরে ১৪০ টাকা অপরিবর্তিত রাখা এবং প্রিমিয়াম স্তরে প্রতি ১০ শলাকার খুচরা মূল্য ১৯০ টাকা নির্ধারণ করা হোক। সেই সঙ্গে খুচরা মূল্যের ওপর ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক, ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রাখার দাবি জানান।
তাদের দাবি অনুযায়ী, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সিগারেট ব্যবহারের হার ১৫.১ শতাংশ থেকে কমে ১৩.০৩ শতাংশে নেমে আসবে। এতে প্রায় ২৪ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান ত্যাগে উৎসাহিত হবেন এবং ১৭ লাখ তরুণ ধূমপানে জড়ানো থেকে বিরত থাকবেন। পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয় বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৬৮ হাজার কোটি টাকায়, যা আগের বছরের তুলনায় ৪৩ শতাংশ বেশি।
সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের উপপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. শরিফুল ইসলাম ও প্রোগ্রাম অফিসার অদূত রহমান।
খবরওয়ালা/এন