খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 26শে আশ্বিন ১৪৩২ | ১১ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন দেশের সর্বশেষ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) প্রদর্শন করে এক জাঁকজমকপূর্ণ সামরিক কুচকাওয়াজে নেতৃত্ব দিয়েছেন। শুক্রবার রাতে রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে অনুষ্ঠিত এই প্যারেড আয়োজন করা হয় দেশটির শাসক দল ওয়ার্কার্স পার্টি অব কোরিয়ার প্রতিষ্ঠার ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয় উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে উন্নত ও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ‘হোয়াসং-২০’। এটি দেশটির ‘সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক কৌশলগত অস্ত্র ব্যবস্থা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
প্যারেডে উপস্থিত ছিলেন একাধিক আন্তর্জাতিক অতিথি। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং, রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ এবং ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান তো ল্যামসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা এই আয়োজনের সাক্ষী ছিলেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হোয়াসং সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তাত্ত্বিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো স্থানে আঘাত হানতে সক্ষম। তবে এর নির্দেশনাগত নির্ভুলতা ও ওয়ারহেড পুনঃপ্রবেশের সক্ষমতা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাংক কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এর বিশ্লেষক অঙ্কিত পাণ্ডা বলেন, ‘হোয়াসং-২০ উত্তর কোরিয়ার দীর্ঘপাল্লার পারমাণবিক অস্ত্র প্রযুক্তির শীর্ষ পর্যায়। বছরের শেষ নাগাদ এর পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ দেখা যেতে পারে।’ তিনি আরও জানান, ক্ষেপণাস্ত্রটি সম্ভবত একাধিক ওয়ারহেড বহনের উপযোগী, যা যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও চাপে ফেলতে পারে।
প্যারেডে দেওয়া ভাষণে কিম জং উন বিদেশে অবস্থানরত উত্তর কোরীয় সেনাদের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দেন। তিনি রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াইরত উত্তর কোরীয় সেনাদের সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেন, তারা শুধু জাতীয় প্রতিরক্ষার অংশ নন, বরং সমাজতান্ত্রিক নির্মাণের অগ্রভাগেও অবস্থান করছেন।
তার ভাষায়, ‘আমাদের সেনাবাহিনীকে এমন এক অজেয় বাহিনীতে পরিণত হতে হবে, যা সব ধরনের হুমকি ধ্বংস করতে সক্ষম।’
এদিন কিম জং উন রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। মেদভেদেভ বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধে উত্তর কোরীয় সেনাদের উপস্থিতি দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার প্রতীক। কিম এ সময় রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং ‘বহুমুখী বিনিময় ও সহযোগিতা’ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, কিমের এই সামরিক প্রদর্শন ও কূটনৈতিক বার্তা স্পষ্ট করছে যে উত্তর কোরিয়া ক্রমেই রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হচ্ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়াচ্ছে।
খবরওয়ালা/এন