খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫
নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী ট্রেনে একদল উচ্ছৃঙ্খল তরুণ হামলা চালিয়েছে। প্রথমে ওই যুবকেরা ক্রিকেটের ব্যাট দিয়ে ট্রেনে ভাঙচুর শুরু করে। এরপর হামলার কারণ জানতে চাইলে তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে এলোপাতাড়ি ব্যাট দিয়ে আঘাত করতে থাকে। এই সময় ট্রেনের জানালা বন্ধ করে দিলে ওই যুবকেরা পাথর নিক্ষেপ শুরু করে। এতে ট্রেনের জানালার কাঁচ ভেঙে যায় এবং দেশের প্রথম নারী ট্রেন চালক সালমা খাতুনসহ তিনজন জখম হন।
শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকার গেন্ডারিয়া স্টেশনে এই ঘটনা ঘটে।
ওই দিন রাতেই সালমা খাতুন ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন। তার টাইমলাইন থেকে লেখাটি ‘রেল তথ্য নারায়ণগঞ্জ’ নামে একটি আইডি কপি করে ফেসবুকে প্রকাশ করে।
সেই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, এটাই আমাদের পেশাগত জীবনের চিত্র। নারী হলে ঝুঁকি আরও বেশি। আজ ৩/১০/২৫ তারিখ দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় যখন নারায়ণগঞ্জ স্টেশন থেকে রেলগাড়ি চালিয়ে এসে গেন্ডারিয়া স্টেশনে থামি। নিয়ম অনুযায়ী লাইন ক্লিয়ার পাওয়ার পর যখন ঢাকার দিকে ট্রেনটি ছাড়তে যাই, ঠিক তখনই কয়েকজন ছেলে এসে ক্রিকেটের ব্যাট দিয়ে জানালায় আঘাত করতে থাকে। সেই মুহূর্তে আমার সহকর্মী এবং আরও একজন সহকর্মী ইঞ্জিনের ভেতরে ছিল। তারা দুজন যখন জানালা দিয়ে কী হয়েছে জানতে চায়, তখনই তাদের ক্রিকেটের ব্যাট দিয়ে মারতে উদ্যত হয়। তারা দ্রুত জানালাটি বন্ধ করে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে ছেলেগুলো পাথর ছুঁড়তে থাকে। জানালার কাঁচ ভেঙে আমাদের সবার চোখ-মুখে লাগে। আমার সহকর্মীর হাত কেটে যায় এবং তার পেটে পাথর আঘাত করে। পরে আমি জানার চেষ্টা করি কী কারণে তারা পাথর নিক্ষেপ করেছে। জানতে পারি, আমার ইঞ্জিনের ওপর থেকে একজন ছিনতাইকারী নেমে এক যুবকের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে আবার ইঞ্জিনের উপরে উঠে যায়। আমাদের ওপর হামলার কারণ ছিল— ইঞ্জিনের উপরে ছিনতাইকারী কেন? এই হচ্ছে আমার ও আমাদের দেশের পরিস্থিতি।
এই বিষয়ে গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনের মাস্টার আলমগীর হোসেন জানান, ঘটনাটি তিনি লোকমুখে শুনেছেন, কিন্তু ট্রেন চালক তার কাছে কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি।
নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে তিনি জানতে পেরেছেন যে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী ট্রেনে কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবক পাথর ছুঁড়ে মেরেছে। সেই ট্রেনটির চালক ছিলেন সালমা খাতুন। তবে এ বিষয়ে কমলাপুর রেলওয়ে থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। তবুও কমলাপুর থানা পুলিশের সহায়তায় উচ্ছৃঙ্খল যুবকদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন