খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 31শে ভাদ্র ১৪৩২ | ১৫ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরী ওরফে মাসুদ করিম রাজধানীর মিন্টো রোড থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
নিজেকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের এজেন্ট হিসেবে পরিচয় দেওয়া এনায়েত বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
বাংলাদেশের গোয়েন্দা সূত্র বলছে, এনায়েত করিম দীর্ঘদিন ধরেই প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিভিন্ন শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের ফাঁদে ফেলে মামলা থেকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতেন তিনি। সম্প্রতি ঢাকায় একটি বড় শিল্পগ্রুপের কর্ণধারের সঙ্গে এক হোটেলে বৈঠক করে ‘হত্যা মামলা’ থেকে নাম বাদ দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম জানান, অন্য একটি গোয়েন্দা সংস্থা এনায়েতকে অনুসরণ করছিল। শনিবার সকালে মিন্টো রোড এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করার সময় একটি প্রাডো গাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারায় এনায়েতকে রমনা থানায় নেওয়া হয়। পরে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয় এবং সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়ে সোমবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেন।
রোববার রাতে এনায়েতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এনায়েত করিম জানিয়েছেন, তিনি বাংলাদেশে এসেছেন বর্তমান সরকার পরিবর্তন করে নতুন জাতীয় সরকার গঠনের কাজে। তার দাবি, তিনি একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট এবং অন্তর্বর্তী সরকার নাজুক অবস্থায় আছে। সেনাবাহিনীর সঙ্গে সরকারের দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এনায়েতের দাবি, ঢাকায় অবস্থানকালে তিনি সরকারি উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এনায়েত করিমের কোনো বাংলাদেশি পাসপোর্ট বা এনআইডি পাওয়া যায়নি। আদালতে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬ সেপ্টেম্বর সকালে তিনি নিউইয়র্ক থেকে কাতার এয়ারওয়েজের একটি বিমানে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন। প্রথমে সোনারগাঁও হোটেলে এবং পরে গুলশানে অবস্থান করেন তিনি।
১৯৮৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া এনায়েত করিম ২০০৪ সালে মার্কিন নাগরিকত্ব পান। এর আগে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় (২০০১-০৬) রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তাকেও একবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
খবরওয়ালা/আশ