খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 12শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ২৬ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ খরচ নকশা পরিবর্তন ও অন্যান্য কারণে ১০ হাজার কোটি টাকা বেড়ে প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছানোর পথে রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ) ইতোমধ্যেই ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব তৈরি করেছে। মূলত নকশা পরিবর্তন, ডলারের মান বৃদ্ধির কারণে, নির্মাণ সামগ্রীর দাম বৃদ্ধি, নতুন কর ও শুল্ক যোগ হওয়ার কারণে খরচ বৃদ্ধি হয়েছে।
শুল্ক ও করসহ অন্যান্য খাতে খরচ প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা বাড়বে। নির্মাণ-সংক্রান্ত খাতে খরচ বাড়বে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাবে চীনের এক্সিম ব্যাংক ইতিমধ্যেই সম্মতি জানিয়েছে। তবে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন প্রয়োজন। পিপিপি মডেলের কারণে সরকারের এবং বিনিয়োগকারীর মধ্যে সমন্বয় কেমন হবে, তা এখনও প্রশ্নবিদ্ধ। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারের টাকা দিলে পিপিপি মডেল ব্যর্থ হবে।
এক্সপ্রেসওয়ের একটি অংশ তুরাগ নদের উপর দিয়ে যাবে। প্রাথমিক নকশায় নদীর শ্রেণি তৃতীয় ধাপে ছিল, যা এখন দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে। ফলে সেতুর উচ্চতা, দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ পরিবর্তন করা হচ্ছে। নতুন নকশা অনুযায়ী নদের ওপর এক্সপ্রেসওয়ের খুঁটির দূরত্ব হবে সর্বোচ্চ ৯০ মিটার এবং সেতুর তল থেকে নদীর পৃষ্ঠ পর্যন্ত উচ্চতা হবে ১২ দশমিক ২ মিটার।
প্রকল্পে নতুন সেতু এবং বাইপাইল এলাকায় ইন্টারসেকশন যুক্ত করা হচ্ছে। বিমানবন্দরের নতুন তৃতীয় টার্মিনালের সঙ্গে মেট্রোরেল যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। মেট্রো ট্রেন কমলাপুরের পথে তৃতীয় টার্মিনালে এক্সপ্রেসওয়ের আগে থেমে পুনরায় যাত্রা করবে।
ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ও নির্মাণ সামগ্রীর দাম বৃদ্ধি প্রকল্প ব্যয়ে প্রভাব ফেলেছে। প্রথম ডিপিপি প্রস্তাবে এক ডলার ৮৪ টাকায় ধরা হয়েছিল, এখন এক ডলারে অন্তত ১২০ টাকা খরচ হচ্ছে।
সেতু বিভাগের সচিব ও বিবিএর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রউফ জানিয়েছেন, ‘বেশ কয়েকটি খাতে ব্যয় বৃদ্ধি হয়েছে। সরকারকে খরচের সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা দিতে হবে। নকশা পরিবর্তন ও ডলারের বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে। বর্ধিত ব্যয় প্রস্তাব চূড়ান্ত, এখন একনেকে পাঠানো হবে।’
নির্মাণকাজে ভূমি অধিগ্রহণ, নকশার জটিলতা, ইউটিলিটি হস্তান্তর ও বিমানবন্দর এলাকায় কাজের সমস্যা এখনও বিদ্যমান। তবে ভূমি অধিগ্রহণ শেষ পর্যায়ে রয়েছে, নকশার কাজ সম্পন্ন, ইউটিলিটি হস্তান্তরে আরও দুই-তিন মাস লাগবে।
প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘প্রকল্প এলাকা বড়। যেখানে কাজ করা সম্ভব সেখানে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বিমানবন্দর দিকে পরে কাজ হবে। বাকী জটিলতা প্রায় মীমাংসিত।’
প্রকল্প অনুমোদনের ছয় বছর পর দৃশ্যমান হচ্ছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। ২০১৭ সালে অনুমোদিত প্রকল্পের প্রথম খুঁটি দেখা যায় ২০২৩ সালে। বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজ শেষ করার লক্ষ্য।
সাভারের ইপিজেড থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত নির্মিত হবে এই উড়াল মহাসড়ক। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সংযোগ হলে সাভার থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত ৪৪ কিমি এক রেখায় চলাচল সম্ভব হবে। র্যাম্পসহ পুরো পথ ৮২ কিমি হবে।
প্রকল্পের মূল সড়কের দৈর্ঘ্য ২৪ কিমি, র্যাম্প ১০ দশমিক ৮৩ কিমি, নবীনগরে ১ দশমিক ৯৫ কিমি উড়ালপথ এবং ২ দশমিক ৭২ কিমি সেতু। নতুন ১৪ দশমিক ২ কিমি সড়ক, ১৮ কিমি ড্রেনেজ ও ডাক্ট নির্মাণ করা হবে।
উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৩০টি জেলা ও চার কোটি মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে। প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ১৭,৫৫৪ কোটি টাকা, যার মধ্যে চীনের এক্সিম ব্যাংক ৯,৬৯২ কোটি টাকা ঋণ দিবে, বাকি অর্থ সরকার বহন করবে। ঋণের টাকা এখনও পাওয়া যায়নি।
প্রকল্পের অগ্রগতি: সার্বিক অগ্রগতি ৬৪ দশমিক ৫০ শতাংশ, নির্মাণের ভৌত অগ্রগতি ৫৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। ৪,২৪৭ খুঁটির মধ্যে ১,৬৯১ খুঁটির ক্যাপ, ১,৪৯৬ খুঁটির কলামের কাজ শেষ। ৪,৭৭৬ টি-গার্ডারের মধ্যে ৪,৫৩৬টির কাজ সম্পন্ন। ২০৫ বক্স গার্ডারের ৪২৪টির ডেক স্ল্যাব শেষ।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ বুয়েটের অধ্যাপক শামছুল হক বলেন, ‘মূল প্রশ্ন ব্যয় বাড়ানো কে বহন করবে। পিপিপি প্রকল্পে ব্যয় বাড়ানো যুক্তিসঙ্গত নয়। সময় মতো কাজ শেষ করতে না পারলে প্রকল্পের লাভ ঝুলে যাবে। মেট্রো সংযোজন ও সমন্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ।’
খবরওয়ালা/টিএসএন