খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন চলাচলের জন্য মাত্র আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ বাইপাস রেললাইনের অভাব রেল যোগাযোগে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে ঢাকা-কক্সবাজার ট্রেনগুলো চট্টগ্রাম স্টেশনে গিয়ে ইঞ্জিন ঘুরিয়ে, লাইন পরিবর্তনের মাধ্যমে গন্তব্যে পৌঁছায়। এতে যাত্রী ও পণ্যের সময় নষ্ট হচ্ছে এবং চলাচল জটিল হচ্ছে।
২০২৩ সালের ১ ডিসেম্বর কক্সবাজার রেললাইন চালু হওয়ার পরও তিন বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে, কিন্তু ওই বাইপাস রেললাইন নির্মাণ হয়নি। এটি আলাদা প্রকল্প হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল; তবে পরে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকার চট্টগ্রাম-দোহাজারী ডুয়েলগেজ রেললাইন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আনুমানিক পাঁচ বছর সময় লাগবে। ফলে বাইপাস না হওয়া পর্যন্ত ঢাকা-কক্সবাজার ট্রেনগুলো চট্টগ্রামে ইঞ্জিন ঘুরিয়ে চলবে।
চট্টগ্রামে সরাসরি ট্রেন চালানোর জন্য পাহাড়তলী থেকে ঝাউতলা পর্যন্ত ২.৫ কিলোমিটার বাইপাস নির্মাণ অপরিহার্য। এই লাইনের মাধ্যমে ঢাকা থেকে আসা ট্রেনগুলো পাহাড়তলী স্টেশন ও মার্শালিং ইয়ার্ড ব্যবহার করে সরাসরি কালুরঘাট সেতু ধরে কক্সবাজার পৌঁছাবে। এতে আনুমানিক এক ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হবে।
রেলের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুট রেলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুট। এখানে মোট যাত্রীর ৩২ শতাংশ এবং পণ্যের ৫৫ শতাংশ পরিবহন করা হয়। এটি রেলের সবচেয়ে লাভজনক রুট হিসেবেও পরিচিত।
বর্তমানে ঢাকা-কক্সবাজারে “কক্সবাজার এক্সপ্রেস” এবং “পর্যটক এক্সপ্রেস” নামের দুটি ট্রেন চলাচল করে। ঢাকা থেকে কক্সবাজারে ট্রেনে চলতে ৮–৯ ঘণ্টা সময় লাগে। সরাসরি ট্রেন চালু হলে সময় কমে আনুমানিক ৭–৮ ঘণ্টা হবে।
চট্টগ্রাম-দোহাজারী ৫২ কিলোমিটার মিটারগেজ রেললাইন ডুয়েলগেজে রূপান্তরের কাজ ২০২৩ সালের জুলাই থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল। বাস্তবে অর্থের উৎস নিশ্চিত না হওয়ায় প্রকল্প শুরু হয়নি। ২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর এডিবির সঙ্গে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের চুক্তি সম্পন্ন হয়। মোট প্রকল্পের ব্যয় ১০,৭৯৭.৮৬ কোটি টাকা, যার মধ্যে এডিবির ঋণ সহায়তা ৬৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ৮,৪০৫ কোটি টাকা। বাকি অর্থ সরকার দেবে।
রেলের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. সবুক্তগীন জানান, “ঢাকা-কক্সবাজারে সরাসরি ট্রেন চালানোর বিষয়টি রেলের অগ্রাধিকার। বাইপাস রেললাইন প্রকল্পটি প্রকল্পের শুরুতেই কাজ শুরু করবে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলক করা হবে। ভূমি সংক্রান্ত জটিলতাও থাকবে না। দুই বছরের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব।”
ঢাকা-কক্সবাজার ট্রেন চলাচলের সম্ভাব্য সময়সীমা (বিকল্প ও বাস্তব)
| রুট/বিকল্প | বর্তমান সময় | সরাসরি ট্রেন হলে | সময় সাশ্রয় |
|---|---|---|---|
| ঢাকা–কক্সবাজার | ৮–৯ ঘণ্টা | ৭–৮ ঘণ্টা | ~১ ঘণ্টা |
| ঢাকা–চট্টগ্রাম | ৪–৫ ঘণ্টা | অপরিবর্তিত | – |
| চট্টগ্রাম–কক্সবাজার | ৪–৫ ঘণ্টা | অপরিবর্তিত | – |