খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫
ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বুধবার (১ অক্টোবর) দিনভর তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা। ফলে যাত্রী, ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের জীবনে চরম ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
সকাল ১০টা থেকে যানজট শুরু হয়ে দুপুরের পর আরও তীব্র আকার ধারণ করে। বিকেল সাড়ে ৪টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড থেকে আশারির চর পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাঁচপুর থেকে রূপগঞ্জ পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার এলাকায় গাড়ি প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চিটাগাং রোড এলাকার বাস কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। যানজট ও বাস সংকটের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের।
অনেক যাত্রী অভিযোগ করেছেন, হাইওয়ে পুলিশের উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। ফলে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ। ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল ৯টা থেকে আটকা আছি। বিকেল ৩টা বাজলেও মাত্র ২০ কিলোমিটার যেতে পেরেছি। হাইওয়ে পুলিশ কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করছে না।’
একই অভিজ্ঞতার কথা জানালেন সিলেটগামী যাত্রী আফরোজা। তিনি বলেন, ‘সকাল ১১টায় ঢাকা থেকে রওনা হয়েছি, এখন বিকেল ৩টা—এখনো কাঁচপুর পার হতে পারিনি। ছোট গাড়ি, ট্রাক সব মিলে বিশাল যানজট তৈরি হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ করার কেউ নেই।’
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, দুর্গাপূজা উপলক্ষে গ্রামের পথে মানুষের চাপ বেড়েছে। এর সঙ্গে সড়কের কিছু খারাপ অবস্থা ও বিকল গাড়ি যোগ হয়ে যানজট তীব্র হয়েছে। কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল কাদের জিলানী বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়া ও ছুটির কারণে গাড়ির চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। এতে গতি কমে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। এখন ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে।’
শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশের টিআই জুলহাস উদ্দিন জানান, ‘সোনারগাঁয়ের দড়িকান্দিসহ দুটি স্থানে গাড়ি বিকল হওয়ায় সাইনবোর্ড থেকে টোলপ্লাজা পর্যন্ত যানজট ছড়িয়ে পড়ে। তবে বর্তমানে যান চলাচল শুরু হয়েছে।’
যানজটে আটকে থাকা যাত্রীদের ভোগান্তি ছিল চরম। খাবার ও পানি শেষ হয়ে যাওয়ায় শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন। চট্টগ্রামগামী যাত্রী সেলিম আহমেদ বলেন, ‘বাসে বসে ৫ ঘণ্টা পার করেছি। খাওয়ার কিছু নেই। হাইওয়ে পুলিশ কোথায় ছিল জানি না।’
শুধু যাত্রী নয়, মহাসড়কের পাশে থাকা দোকানদার ও ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। দীর্ঘ সময় গাড়ি আটকে থাকায় ব্যবসা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান তারা।
পরিবহন কাউন্টার মালিকদের মতে, দেশের লাইফলাইন খ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রতি মিনিটে প্রায় ৫০টি গাড়ি চলাচল করে। এ সড়কে যথাযথ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও প্রযুক্তি ব্যবহারের অভাবের কারণে সামান্য সমস্যাতেই দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।
নোয়াখালীগামী যাত্রী মারুফ খন্দকার বলেন, ‘শিশুদের খাবার শেষ, অনেক যাত্রীর জরুরি ওষুধ সঙ্গে আছে। এই পরিস্থিতি একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। জরুরি প্রয়োজনে আমরা কীভাবে চলাচল করব?’
খবরওয়ালা/এন