ঢাকা মেডিকেলের ইএনটি প্রধানের ওপর হামলা

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. আসাদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। রাজধানীর শান্তিনগরে ব্যক্তিগত চেম্বার শেষে সিএনজি অটোরিকশায় ওঠার সময় একদল ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালায়। এতে মাথা, চোখ ও নাকে আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত হন তিনি। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শান্তিনগরের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের একটি শাখা থেকে বের হওয়ার পর এ ঘটনা ঘটে। অধ্যাপক আসাদুর রহমান ওই প্রতিষ্ঠানের তিন নম্বর ভবনে ব্যক্তিগত চেম্বার করছিলেন। চেম্বার শেষে তিনি মোহাম্মদপুরের বাসায় ফেরার জন্য সিএনজি অটোরিকশায় উঠছিলেন। এ সময় চার থেকে পাঁচজন ব্যক্তি অটোরিকশাটি থামিয়ে তাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট এক কর্মী।

হামলায় অধ্যাপক আসাদুর রহমানের মাথা, চোখ ও নাকে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মী রাশেদুল ইসলাম তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হামলার কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, একজন রোগীকে চিকিৎসা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ থেকে এ হামলা হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল খান জানান, অধ্যাপক আসাদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় একটি মামলা করা হয়েছে। হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি দাবি করেছেন, তিনি হামলার শিকার রোগীর বন্ধু এবং চিকিৎসা নিয়ে অসন্তোষ থেকেই তারা অধ্যাপকের ওপর হামলা চালিয়েছেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বক্তব্যে চিকিৎসায় ভুলের অভিযোগের বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে অভিযোগটি সত্য কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

অধ্যাপক আসাদুর রহমানের ওপর হামলার সময় সেখানে থাকা পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মী রাশেদুল ইসলাম বলেন, চার থেকে পাঁচজন ব্যক্তি হঠাৎ সিএনজি অটোরিকশাটি থামিয়ে অধ্যাপকের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করেছিল বলেও তিনি জানান। তবে হামলাকারীরা কারা এবং ঠিক কী কারণে তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অধ্যাপক আসাদুর রহমানের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে হামলার আগে কোনো বিরোধ বা হুমকির ঘটনা ছিল কি না, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়।

পুলিশ জানিয়েছে, চিকিৎসা নিয়ে রোগীর স্বজনদের অসন্তোষের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে সামনে এলেও শুধু গ্রেপ্তার ব্যক্তির বক্তব্যের ভিত্তিতে হামলার কারণ নিশ্চিত করা হচ্ছে না। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, হামলার পেছনে প্রকৃত কারণ কী এবং হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র বা অন্যান্য আলামত সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

একজন চিকিৎসকের ওপর কর্মস্থলের বাইরে এ ধরনের হামলার ঘটনায় চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এই ঘটনার ক্ষেত্রে হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

Tags :

ratul Khaborwala

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ খবর