খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মলচত্বরে শনিবার রাত দশটার পর একজন ছাত্রী প্রবেশে প্রক্টোরিয়াল বডির বাধার সম্মুখীন হওয়ায়, গতকাল রবিবার রাত দশটার পরে একদল ছাত্রী সেই স্থানে মিলিত হয়ে প্রতিবাদ হিসেবে আড্ডায় অংশ নেন।
এদিকে, এই বাধা প্রদানের ঘটনায় সহকারী প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমেদ দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
নারী শিক্ষার্থীরা গতকাল রবিবার রাত সোয়া দশটার দিকে মল চত্বরের ফোয়ারার সামনে উপস্থিত হন। তারা একটি কেক কেটে কিছু সময় গল্প-আড্ডা শেষে স্থান ত্যাগ করেন। এ সময় ছাত্রদলের ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক চেমন ফারিয়া ইসলাম মেঘলা মন্তব্য করেন, ‘নিরাপত্তার বিষয়টি সবার জন্য প্রযোজ্য হওয়া উচিত। এটি কেবল মেয়েদের ক্ষেত্রেই হবে, বিষয়টা তেমন নয়। বহু মেয়ের বাড়ি দূরবর্তী স্থানে। যারা উত্তরবঙ্গ থেকে আসেন, তাদের হলে পৌঁছাতে সাত-আট ঘণ্টা সময় লাগে। কিন্তু হলের প্রবেশপথ রাত দশটায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এরপর তারা কোথায় যাবেন?’ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র আশরেফা খাতুন বলেন, ‘আমরা এখানে একত্রে সময় কাটাচ্ছি। এটি আমাদের স্বাভাবিকভাবে আড্ডা দেওয়ার অধিকার।’
প্রক্টরের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘শনিবার রাতে মল চত্বরে প্রবেশের সময় একজন নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা ঘটেছিল। এই ঘটনার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। নারী শিক্ষার্থীদের রাত দশটার পর ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে প্রবেশে কোনো প্রকার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য বহিরাগত ও ভবঘুরেদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’
শনিবার রাতে ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ভালনারিবিলিটি স্টাডিজ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী ইসরাত জাহান গয়না অভিযোগ করেন, তিনি মল চত্বরে প্রবেশ করতে গেলে নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে বাধা দেন। ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ‘মল চত্বরে আমরা প্রবেশ করার সময় দুইজন প্রহরী ডেকে আমাদের ভেতরে ঢুকতে বারণ করেন। তিনি জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে নিয়ম হয়েছে যে মেয়েরা রাত ১০টার পর মল চত্বরে প্রবেশ করতে পারবে না। এরপর আমি প্রক্টরকে ফোন করি। আমি জানতে চাই, এই নিয়ম আমাদের কেন জানানো হয়নি। কারণ আমরা তো এর ফলে হয়রানির শিকার হচ্ছি। উত্তরে তিনি জানান, যেহেতু তারা নোটিশ দেননি, তাই আমাদের নিয়ম জানানো হবে।’ পোস্টে ইসরাত আরও জানান, পরে প্রক্টর নিরাপত্তা কর্মীদের তাকে এবং তার বান্ধবীকে প্রবেশাধিকার দিতে বলেন। তবে তাদের কার্ডের আলোকচিত্র নিতে হয় এবং অভিভাবকের ফোন নম্বরও জানতে চাওয়া হয়।
এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ফেসবুকে সমালোচনা শুরু হয়। এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ বলেছেন, এই ধরনের অদ্ভুত নিয়মের অবশ্যই সমাধান করা হবে। হলে প্রবেশ এবং পরিচয় যাচাইকরণের সময়সীমা নির্ধারণে পাঁচ ছাত্রী হলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং সেই সিদ্ধান্ত মানতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বাধ্য করা হবে।
খবরওয়ালা/টিএসএন