কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: 17শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ | ৩১ই মে ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নের ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ। অফিসটির তহশিলদার শফিকুল ইসলাম শফির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সেবা গ্রহীতাদের হয়রানি ও অতিরিক্ত টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অফিসে নিয়মিত উপস্থিত না থাকা, অসুস্থতার অজুহাতে কাজ না করা এবং খাজনা বাবদ অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কারণে তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন ভেড়ামারা পৌরসভার কলেজপাড়ার বাসিন্দা সোহেল মাহমুদ। তিনি জানান, গত ছয় মাসে তিনি ২৫ বার মোকারিমপুর ভূমি অফিসে গিয়েছেন ৪২ শতক জমির খাজনা দিতে। অথচ প্রতি বারই তাকে ঘোরাতে থাকে তহশিলদার। একপর্যায়ে সহকারীর মাধ্যমে খাজনার বিপরীতে দাবি করা হয় ৭০ হাজার টাকা। পরে আপস করে ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হয় দলিল লেখক ইয়ারুলের মাধ্যমে।
সোহেল বলেন, ‘গত ১৫ মে বৃহস্পতিবার ইয়ারুলের মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকা তহশিলদার শফিকুলকে দেই। খাজনার কাজ চলার সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে শফিকুল রশিদ পরে দিতে চায়। কিন্তু তার প্রতি বিশ্বাস না থাকায় আমি টাকা ফেরত নেই। এখন জমির খাজনা দিতে না পারায় বিক্রি করতে পারছি না, আর টাকার অভাবে মেয়ের বিয়েও আটকে আছে।’
সোহেলের স্ত্রী আলিয়া খাতুন বলেন, ‘আমরা খুব কষ্টে আছি। খাজনার টাকা দিতে পারলে আজই জমি বিক্রি করে কাল মেয়ের বিয়ে দিতে পারতাম।’
দলিল লেখক ইয়ারুল স্বীকার করেছেন, ‘সোহেল মাহমুদের পক্ষ থেকে আমি তহশিলদার শফিকুলকে ৪০ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। খাজনার কাজ চলাকালে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় রশিদ দেওয়া হয়নি। পরে টাকা ফেরত নেওয়া হয়।’তহশিলদার শফিকুল ইসলাম প্রথমে সোহেল মাহমুদকে চিনেন না বলে দাবি করলেও পরে টাকা নেওয়ার প্রসঙ্গে বলেন, ‘হ্যাঁ, এবার চিনতে পারলাম। টেবিলের ওপর টাকা রেখেছিল, তবে আমি নেইনি।’ তবে অন্যান্য অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, শফিকুল রয়েল এনফিল্ডসহ দামি ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওগুলো আমার না, জামাইয়ের। শখ করে চড়েছি।’
এ বিষয়ে ভেড়ামারা সহকারী (ভূমি) কমিশনার আনোয়ার হোসাইন বলেন, “আমার জানা মতে, জমির খাজনা দিতে এত টাকা লাগার কথা নয়। যেহেতু ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন, আমরা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।”
সরেজমিনে দেখা গেছে, অফিসে অধিকাংশ দিনই অনুপস্থিত থাকেন তহশিলদার। ভুক্তভোগীরা জানান, সেবা না পেয়েই তারা অফিস ত্যাগ করেন। অনেকেই অভিযোগ করছেন, তহশিলদারের বিরুদ্ধে বারবার লিখিত অভিযোগ করেও কোনো ফল মেলেনি।
স্থানীয়দের দাবি, দুর্নীতিগ্রস্ত এই তহশিলদারের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
খবরওয়ালা/আরডি