খবরওয়ালা মফস্বল ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে কক্সবাজারের টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। নিম্নচাপের কারণে উত্তাল সাগরের ঢেউয়ের আঘাতে সড়কটির অবস্থান ঝুঁকির মুখে পড়েছে এবং সড়ক রক্ষায় ব্যবহৃত জিও ব্যাগগুলোও মুহূর্তে তলিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিস্থিতিও আশঙ্কাজনক হয়ে উঠেছে। লঘুচাপের তীব্র প্রভাবে দ্বীপটির উত্তর-পশ্চিমাংশে প্রবাল প্রাচীরের গাইড ওয়াল ভেঙে পড়েছে, যার কারণে দ্বীপটির ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
শনিবার (২৬ জুলাই) সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের বাহারছড়া ঘাট থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত সড়কের অন্তত ১৫টি স্থানে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে যান চলাচলে ব্যাপক দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে, পাশাপাশি এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্কও দেখা দিয়েছে। ফতেআইল্যে পাড়া এলাকায় মেরিন ড্রাইভের পশ্চিম পাশে বসানো জিও ব্যাগের বাঁধ ধসে পড়েছে এবং সড়কের কিছু অংশ ভেঙে পূর্ব দিকে চাষাবাদের জমিতে জোয়ারের পানি ঢুকছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভাঙনের কারণে তাদের চাষাবাদের জমিতে লবণাক্ত পানি ঢুকে পড়তে পারে, যা ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। যদি সড়কটি পুরোপুরি ভেঙে যায়, তবে পাশের কয়েকটি গ্রামও প্লাবিত হতে পারে।
এছাড়া, সড়ক ভাঙনের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, ট্যুরিজম পার্ক গড়ে ওঠায় জমির দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে বালু তুলে জমি ভরাট করছেন, যার ফলে সড়কের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে। সামান্য বড় ঢেউ এলেই সড়ক ভেঙে পড়ছে।
সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা ও সাংবাদিক আবদুল মালেক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মৌসুমি লঘুচাপের প্রভাবে সেন্টমার্টিনে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে দুই থেকে তিন ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে দ্বীপের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের কারণে দ্বীপের উত্তর-পূর্বাংশের অনেক পাকা স্থাপনার গাইড ওয়াল ভেঙে পড়েছে, এবং দ্বীপের জেলেদের মাছ ধরাও বন্ধ রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুল হান্নান জানিয়েছেন, উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে, এবং এর প্রভাবে কক্সবাজারসহ উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ১ থেকে ৩ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস এবং দমকা হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা এবং পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ কক্সবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী রোকন উদ্দিন খালেদ চৌধুরী জানিয়েছেন, মেরিন ড্রাইভ সড়কটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইসিবির তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং টেকনাফ অংশে ভাঙনের খবর পাওয়া গেছে। ইসিবি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
এই পরিস্থিতি কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিনের বাসিন্দাদের জন্য উদ্বেগজনক, এবং সড়ক ও উপকূলীয় অঞ্চলে আরও সতর্কতা অবলম্বন করার প্রয়োজন।
খবরওয়ালা/আরডি