ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে একই দিনে ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেল পাঁচটা কুড়ি মিনিট থেকে রাত সাড়ে দশটার মধ্যে এসব মৃত্যু ঘটে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এ নিয়ে চলতি বছরে একই উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে বিশ।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান জানান, সর্বশেষ চব্বিশ ঘণ্টায় নতুন করে আরও বত্রিশ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে চুয়াত্তর শিশু। এ পর্যন্ত মোট নয়শ পঁচিশ শিশু এই উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে আটশ একত্রিশ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।
মারা যাওয়া তিন শিশুর মধ্যে গৌরীপুর উপজেলার হারুন মিয়ার সাত মাস বয়সী ছেলে মোস্তাকিমকে গত বাইশ এপ্রিল বিকেলে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আনা হয়। তাকে বিচ্ছিন্ন চিকিৎসা কক্ষে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। গতকাল বিকেল পাঁচটা কুড়ি মিনিটে তার মৃত্যু হয়।
অপর শিশু জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার সাফায়েত হোসেনের চার মাস বয়সী মেয়ে সাইফা। তাকে তেইশ এপ্রিল ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সন্ধ্যা ছয়টা পাঁচ মিনিটে তার মৃত্যু ঘটে।
তৃতীয় শিশু নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার শাকিল মিয়ার পাঁচ মাস বয়সী ছেলে সামিউল্লাহ। তাকে বিশ এপ্রিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রাত সাড়ে দশটায় তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা যায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে শিশু বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে রোগী ভর্তি শুরু হয়। মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছেষট্টি শয্যার একটি পৃথক বিচ্ছিন্ন চিকিৎসা কক্ষ চালু করে, যেখানে তিনটি চিকিৎসক দল দায়িত্ব পালন করছে।
চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে নতুন ভর্তি, সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পাওয়া এবং মৃত্যুর তথ্য নিচের সারণিতে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় |
সংখ্যা |
| মোট ভর্তি শিশু |
৯২৫ |
| সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা শিশু |
৮৩১ |
| বর্তমানে চিকিৎসাধীন শিশু |
৭৪ |
| মোট মৃত্যু |
২০ |
| গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি |
৩২ |
| গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে ছাড়া |
৩৬ |
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত চব্বিশ ঘণ্টায় আরও ছত্রিশ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। একই সময়ে এক শিশুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ওঠানামা করলেও মৃত্যুর ঘটনা ও নতুন রোগী ভর্তি অব্যাহত রয়েছে। চিকিৎসা কার্যক্রম বিচ্ছিন্ন চিকিৎসা কক্ষে বিশেষ ব্যবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে আক্রান্ত শিশুদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।