খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান আলী লারিজানির হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান আজ বুধবার ইসরায়েলের তেল আবিবে ক্লাস্টার ওয়ারহেডযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ক্লাস্টার ওয়ারহেড, যা গুচ্ছ বোমা হিসেবে পরিচিত, আঘাত করলে মধ্য আকাশে বিস্ফোরণের মাধ্যমে অসংখ্য ছোট ছোট বোমা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিস্তীর্ণ এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ চালায়, ফলে সাধারণ মানুষের জন্য এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক।
একই সময়ে, ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-কে জানিয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে সেখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রোসি আবারও সংঘাতের সময় সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়ানো যায়।
ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর জরুরি সেবা বিভাগের কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো পরিদর্শন করেছেন। তেল আবিবের জনবহুল এলাকায় চালানো এই ক্লাস্টার হামলায় কমপক্ষে দুই জন নিহত হয়েছেন। সামগ্রিকভাবে, চলমান যুদ্ধে ইসরায়েলে নিহতের সংখ্যা এখন অন্তত ১৪ জন।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে জানা যায়, তারা প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ইরানে হামলা শুরু করেছে। এই অভিযান মূলত ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি চালানো থেকে বিরত রাখতে চালানো হয়েছে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে গতকাল লারিজানি নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। লারিজানি ছিলেন সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব। একই সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, লারিজানির ছেলে এবং ডেপুটি আলিরেজা বায়াতও নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েল বারবার উল্লেখ করেছে, ইরান ক্লাস্টার ওয়ারহেড ব্যবহার করছে। এসব বোমা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন, কারণ এগুলো বিস্ফোরণের পর অনেক ছোট ছোট অংশে বিভক্ত হয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক হামলার প্রাথমিক তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| তারিখ | স্থান | ক্ষেপণাস্ত্রের ধরন | নিহত/আহত | উল্লেখযোগ্য ঘটনা |
|---|---|---|---|---|
| ১৭ মার্চ ২০২৬ | বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্র | অজানা ক্ষেপণাস্ত্র | ০ | কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি |
| ১৮ মার্চ ২০২৬ | তেল আবিব | ক্লাস্টার ওয়ারহেড | ২ নিহত | জনবহুল এলাকায় বিস্তার ও ধ্বংস |
| ১৮ মার্চ ২০২৬ | মধ্যাঞ্চল, ইসরায়েল | ক্লাস্টার ওয়ারহেড | ১৪ মোট | ভবন ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত, জরুরি সেবা কর্মীরা পরিদর্শন |
সংঘাত চলাকালীন পরিস্থিতি অস্থির। ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দুইপক্ষকে সংযম প্রদর্শনের জন্য আহ্বান জানাচ্ছে।
এই হামলার মাধ্যমে ইরান–ইসরায়েল দ্বন্দ্ব নতুন মাত্রায় প্রবেশ করেছে, যেখানে পারমাণবিক কেন্দ্র, জনবহুল এলাকা এবং রাজনৈতিক শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি বর্তমানে খুবই সংবেদনশীল, এবং পরবর্তী দিনগুলোতে সংঘাত আরও জটিল রূপ নিতে পারে।
এভাবে, সংঘাতের তীব্রতা ও ক্ষেপণাস্ত্রের ধরণ বিচার করে বলা যায়, সাম্প্রতিক হামলা পূর্ববর্তী সংঘাতের চেয়ে আরও ভয়াবহ ও বিস্তৃত।