খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে চৈত্র ১৪৩২ | ২২ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইরানের রাজধানী তেহরানের আকাশে রোববার (২২ মার্চ) একটি অত্যাধুনিক সশস্ত্র ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনী জানাচ্ছে, এই ড্রোনটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ মালিকানাধীন এবং কোনো হামলা বা আক্রমণ চালানোর আগে প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।
আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, তেহরানের ওপর ইসরায়েলের সম্ভাব্য বিমান হামলার মুখে এই সাফল্য ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দক্ষতা ও আকাশসীমার নিয়ন্ত্রণের প্রতিফলন।
ইরানের সামরিক কমান্ডের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ’ শুরু হওয়ার পর থেকে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী শত্রুর ১২৭টি উন্নতমানের ড্রোন ধ্বংস করেছে। এসব ড্রোন বিভিন্ন মডেলের এবং তেহরানের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশের সময় নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
| ক্রমিক | ড্রোনের ধরন | মালিকানা | ধ্বংসের তারিখ | লক্ষ্যবস্তু অবস্থান |
|---|---|---|---|---|
| ১ | সশস্ত্র ড্রোন | মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ | ২২ মার্চ ২০২৬ | তেহরান, আকাশসীমা |
| ২–১২৭ | বিভিন্ন মডেল | শত্রুপক্ষ | মার্চ ২০২৬ (ধাপে ধাপে) | বিভিন্ন অঞ্চল |
তেহরানের আকাশে দফায় দফায় বিস্ফোরণ এবং আগুনের আলোর উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছে, তারা তেহরানের বিভিন্ন সরকারি ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে নতুন বিমান হামলার পরিকল্পনা শুরু করেছে।
ইরান প্রতিটি অনুপ্রবেশকারী ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম হচ্ছে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি সত্যিই এই ধ্বংসের পরিমাণ সত্য হয়, তবে এটি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের গতিপ্রকৃতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
এতদূর পর্যন্ত, তেহরানের আকাশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্টাপাল্টি লড়াই চলছেই। ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এই ধারাবাহিক সাফল্য দেশটির সামরিক সক্ষমতার শক্তিশালী বার্তা বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। তবে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক অবস্থা বজায় রেখেছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই আকাশ যুদ্ধের ফলাফল এবং পরবর্তী সম্ভাব্য ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে।