খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে কঠোর অবস্থানে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নোয়াখালী-২ (সেনবাগ ও সোনাইমুড়ীর আংশিক) আসনে দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে গিয়ে স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিযোগে সেনবাগ উপজেলা ও পৌর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ মোট ১৮ জন নেতা-কর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের আলোকে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।
মঙ্গলবার রাতে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই বহিষ্কারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দলীয় আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়া এবং প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বুধবার বিকেলে নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কেন্দ্র থেকে এই সিদ্ধান্ত পাঠানো হয়েছে এবং জেলা কমিটি তা বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।
নিচে বহিষ্কৃত প্রধান নেতা ও তাঁদের দলীয় পদের একটি সংক্ষিপ্ত সারণি দেওয়া হলো:
| ক্রমিক | নেতার নাম | দলীয় পদমর্যাদা (পূর্বতন) |
| ০১ | জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী | যুগ্ম আহ্বায়ক, সেনবাগ উপজেলা বিএনপি |
| ০২ | নজরুল ইসলাম | যুগ্ম আহ্বায়ক, সেনবাগ উপজেলা বিএনপি |
| ০৩ | কামাল উদ্দিন | যুগ্ম আহ্বায়ক, সেনবাগ পৌর বিএনপি |
| ০৪ | রেজাউল হক | যুগ্ম আহ্বায়ক, সেনবাগ পৌর বিএনপি |
| ০৫ | আবুল কালাম আজাদ | সদস্য, উপজেলা বিএনপি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান |
| ০৬ | ওবায়দুল হক | সদস্য, সেনবাগ উপজেলা বিএনপি |
(এছাড়াও সাখাওয়াত উল্যাহ, মমিন উল্যাহ, মির্জা সোলাইমানসহ আরও ১২ জন সক্রিয় কর্মী এই তালিকায় রয়েছেন।)
নোয়াখালী-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করছেন কাজী মফিজুর রহমান। বহিষ্কৃত নেতা-কর্মীরা তাঁর ‘কাপ-পিরিচ’ প্রতীকের পক্ষে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। বহিষ্কৃত নেতাদের অন্যতম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় বেশ কড়া মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “মাথাই যেখানে নাই, সেখানে টুপি দিয়ে কী হবে? পদ-পদবি বড় কথা নয়, আমরা সাধারণ সমর্থক হিসেবে আমাদের প্রার্থীর পক্ষে আছি। সমর্থক বহিষ্কার করলে তো দলই থাকে না। আমরা আমাদের প্রার্থীকে বিজয়ী করেই ঘরে ফিরব।”
নির্বাচনী বিশ্নেষকদের মতে, নোয়াখালীর এই আসনটিতে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি বেশ মজবুত থাকলেও অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে। ১৮ জন গুরুত্বপূর্ণ নেতা-কর্মীর বহিষ্কার নির্বাচনে ভোটের সমীকরণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে দল চাচ্ছে কঠোর শৃঙ্খলার মাধ্যমে একক প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে, অন্যদিকে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে থাকা স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের এই অবাধ্যতা দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনকালীন এই সময়ে বড় আকারের বহিষ্কার স্থানীয় কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
বিদ্রোহী প্রার্থী কাজী মফিজুর রহমানের কাপ-পিরিচ প্রতীকের জনপ্রিয়তা এবং বহিষ্কৃত নেতাদের তৃণমূল সংযোগ মূল প্রার্থীর জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেনবাগ ও সোনাইমুড়ীর সাধারণ ভোটাররা এখন এই দলীয় বনাম বিদ্রোহী লড়াইয়ের চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছেন।