খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পটুয়াখালীর বাউফলে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও দেশের প্রচলিত বিচার ব্যবস্থা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বিদেশী শক্তির প্রভাব এবং প্রচলিত আইনের অসারতা তুলে ধরে সাধারণ মানুষকে ‘হাতপাখা’ প্রতীকের ছায়াতলে আসার আহ্বান জানান। তিনি মন্তব্য করেন যে, বর্তমানে ন্যায়ের প্রতীক হিসেবে পরিচিত দাঁড়িপাল্লার এক পাল্লায় গোপনে আমেরিকা এবং অন্য পাল্লায় ভারত অবস্থান করছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি আব্দুল মালেক আনোয়ারীর সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চরমোনাই পীর বলেন, “মানুষ ইনসাফের আশায় যে প্রতীকের দিকে তাকায়, সেখানে আজ বিদেশী শক্তির ছায়া। এক পাল্লায় আমেরিকা আর অন্য পাল্লায় ভারতের ইনসাফ নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ চলতে চায় না। এ দেশের মানুষ চায় ইসলামের ইনসাফ, যা প্রকৃত অর্থে বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলবে।”
তিনি আরও বলেন, বিগত ৫৪ বছর ধরে প্রচলিত আইনেই দেশ পরিচালিত হয়েছে, কিন্তু তাতে সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং দুর্নীতির বিস্তার ঘটেছে এবং সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
| বিষয় | চরমোনাই পীরের বক্তব্য ও পর্যবেক্ষণ |
| বিদেশী প্রভাব | আমেরিকা ও ভারতের গোপন আঁতাতের সমালোচনা এবং সার্বভৌমত্বের গুরুত্ব। |
| রাষ্ট্র পরিচালনা | প্রচলিত ব্রিটিশ বা পাশ্চাত্য আইন দিয়ে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন অসম্ভব। |
| রাজনৈতিক সংস্কৃতি | এক দল ক্ষমতায় আসলে অন্য দলের পলায়নপর রাজনীতির অবসান চান। |
| নির্বাচনী অঙ্গীকার | ইসলামী আন্দোলন ক্ষমতায় আসলে কোনো নিরপরাধ মানুষকে দেশ ছাড়তে হবে না। |
| ভোটের গুরুত্ব | হাতপাখার প্রতিটি ভোটকে ইসলামের শক্তির সংহতি হিসেবে উল্লেখ। |
চরমোনাই পীর তাঁর বক্তব্যে সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “এ দেশের ছাত্র ও সাধারণ মানুষ একটি জুলুমমুক্ত, বৈষম্যহীন সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন নিয়ে রাজপথে রক্ত দিয়েছে। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহলের নীল-নকশার কারণে সেই অর্জন ও স্বপ্ন আজ ধূলিসাৎ হওয়ার পথে।” তিনি ভোটারদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার মোহ যাদের অন্ধ করে দিয়েছে, তারা কখনোই জনগণের বন্ধু হতে পারে না।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির দাবি করেন, তাঁর দল ক্ষমতায় গেলে দেশে প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসান ঘটাবে। তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা দেখেছি এক দল ক্ষমতায় আসলে অন্য দলের নেতা-কর্মীরা প্রাণের ভয়ে দেশ ছেড়ে পালায়। কিন্তু ইসলামের শাসন কায়েম হলে কেবল অপরাধীদের বিচার হবে, রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে দেশান্তরী হতে হবে না।” তিনি হাতপাখা প্রতীকে ভোট চেয়ে বলেন, এটি কেবল একটি মার্কা নয়, বরং প্রচলিত পচে যাওয়া ব্যবস্থার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী অবস্থান।
বাউফল উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক ও হাতপাখা প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি আব্দুল মালেক আনোয়ারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা নাসির আহমেদ কাউসার এবং হাবিবুর রহমান মিসবাহ। এছাড়া পটুয়াখালী জেলা ও বাউফল উপজেলার স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে ইসলামী শাসনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম তাঁর বক্তব্যের শেষে পটুয়াখালী শহরের শহীদ আলাউদ্দিন শিশু পার্কে অনুষ্ঠিত অপর এক সভায় যোগ দেন এবং সেখানেও জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের প্রশংসা করেন। তিনি মনে করেন, আসন্ন নির্বাচনে সাধারণ মানুষের রায়ই নির্ধারণ করবে দেশ কি বিজাতীয় শক্তির ইশারায় চলবে, নাকি নিজস্ব ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধে পরিচালিত হবে।