খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫
চীনের গুয়াংসি প্রদেশে নিজের দুই সন্তানকে বিক্রি করে সেই অর্থ অনলাইন লাইভস্ট্রিম হোস্টদের বকশিশ দিতে ব্যয় করার অপরাধে ২৬ বছর বয়সী এক নারীকে পাঁচ বছরেরও বেশি কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। একইসঙ্গে তাকে আর্থিক জরিমানাও করা হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত ওই নারীর নাম হুয়াং। ছোটবেলায় তাকে দত্তক নেওয়া হয়েছিল এবং প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্তই তার আনুষ্ঠানিক শিক্ষা সীমাবদ্ধ ছিল। অর্থনৈতিক সংকট, অনিশ্চিত পিতৃপরিচয় এবং আত্মকেন্দ্রিক মানসিকতা—এই তিনটি কারণ তাকে চরমপন্থী সিদ্ধান্ত নিতে প্ররোচিত করে বলে আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
প্রথমবার ২০২০ সালের অক্টোবরে হুয়াং তার প্রথম সন্তানকে প্রায় ৪৫,০০০ ইউয়ান (প্রায় ৫ লাখ টাকা) মূল্যে বিক্রি করেন এক আত্মীয় লি-এর কাছে। যদিও শিশুটি দত্তক নেওয়ার আড়ালে লেনদেন হয়, তবুও হুয়াং সেই অর্থ নিজের জন্য ব্যয় করেন, বিশেষ করে অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে হোস্টদের ‘টিপ’ দিতে।
এরপর, ২০২২ সালে অর্থ শেষ হয়ে গেলে হুয়াং ইচ্ছাকৃতভাবে দ্বিতীয় সন্তান ধারণ করেন, এবং জন্মের পরপরই সেই সন্তানকে ৩৮,০০০ ইউয়ানে (প্রায় ৪.৫ লাখ টাকা) বিক্রি করে দেন এক দালালের কাছে। দালালটি পরবর্তীতে শিশুটিকে প্রায় ১,০৩,০০০ ইউয়ানে (প্রায় ১২ লাখ টাকা) পুনরায় বিক্রি করে।
২০২২ সালের এপ্রিল মাসে তদন্তকারীরা হুয়াংয়ের কিছু চ্যাট লগ থেকে শিশু পাচারের তথ্য শনাক্ত করেন। এরপর প্রশাসন দ্রুত অভিযান চালিয়ে দুই শিশুকেই উদ্ধার করে। বর্তমানে তারা চীনের সমাজকল্যাণ বিভাগের হেফাজতে রয়েছে এবং নতুন দত্তক প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হচ্ছে।
২০২৫ সালের ৮ জুলাই চীনের ফুজো শহরের জিনআন জেলা পিপলস কোর্ট হুয়াংকে মানবপাচার ও প্রতারণার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। তাকে ৫ বছর ২ মাসের কারাদণ্ড ও ৩০,০০০ ইউয়ান জরিমানা করা হয়।
এছাড়া, মামলার সঙ্গে জড়িত আরও দুই ব্যক্তি—প্রথম শিশুর গ্রহণকারী আত্মীয় লি ও হুয়াংয়ের সাবেক বাড়িওয়ালা ওয়েই—কেও দণ্ড দেওয়া হয়েছে। লি পেয়েছেন ৯ মাস ও ওয়েই ৭ মাস কারাদণ্ড।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনে পুত্রসন্তানকে বংশরক্ষার মাধ্যম হিসেবে দেখার সংস্কার ও নিঃসন্তান দম্পতিদের চাহিদা—এই দুই মিলিয়ে এখনো শিশু পাচার একটি বড় সামাজিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। অনেক সময় এই ধরনের অবৈধ দত্তক প্রক্রিয়াকে আড়াল করে মানবপাচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
তবে সরকারের নেওয়া কঠোর আইন ও দৃষ্টান্তমূলক সাজা ব্যবস্থা মানবপাচার রোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খবরওয়ালা/এমএজেড