দিনাজপুরে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) সরকারি সার গুদাম থেকে প্রায় ৩২৮ মেট্রিক টন সার উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গুদামরক্ষক মো. আক্তারুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ। ঘাটতি পাওয়া সারের আনুমানিক মূল্য ৬৭ লাখ ৮৫ হাজার ৪৫০ টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) রাতে দিনাজপুর সদর উপজেলার নশিপুর এলাকায় অবস্থিত বিএডিসির সরকারি সার গুদাম থেকে আক্তারুল ইসলামকে আটক করা হয়। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় বিএডিসি দিনাজপুরের সহকারী পরিচালক (সার) মো. খুরশীদ আলম কোতোয়ালি থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।
আটক আক্তারুল ইসলাম দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আরাজি গ্রামের মো. আফছার আলীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নশিপুরে বিএডিসির সরকারি গুদাম থেকে অনুমোদন ছাড়াই বিপুল পরিমাণ সার বিক্রির অভিযোগ প্রশাসনের নজরে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার গুদামে অভিযান ও মজুত যাচাই করা হয়। অভিযানে দিনাজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বিএডিসি দিনাজপুর অঞ্চলের যুগ্ম পরিচালক (সার) মো. জাহাঙ্গীর আলম, বিএডিসির অন্যান্য কর্মকর্তা এবং কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূরনবীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অংশ নেয়।
বিএডিসির সহকারী পরিচালক মো. খুরশীদ আলমের করা এজাহারে বলা হয়েছে, সোমবার নশিপুরের সার গুদাম পরিদর্শনের সময় মজুত সারের সঙ্গে সরকারি হিসাব মিলিয়ে দেখা হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ সারের ঘাটতি ধরা পড়ে।
ঘাটতির মধ্যে রয়েছে ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট সার ২২৭ দশমিক ৪৫ মেট্রিক টন, যা ৪ হাজার ৫৪৯ বস্তার সমান। পাশাপাশি মিউরিয়েট অব পটাশ সার পাওয়া যায়নি ১০০ দশমিক ৪৫ মেট্রিক টন বা ২ হাজার ৯ বস্তা। সব মিলিয়ে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৩২৭ দশমিক ৯০ মেট্রিক টন, যা প্রায় ৩২৮ মেট্রিক টন।
গুদামরক্ষক আক্তারুল ইসলামকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি ঘাটতি থাকা সারের বিপরীতে বৈধ কাগজপত্র, চালান, বিতরণ রেজিস্টার বা গ্রহণযোগ্য হিসাব দেখাতে পারেননি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তিনি ঘাটতি থাকা সারের একটি অংশ বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই দুই সার ডিলারের কাছে দেওয়া হয়েছে বলে স্বীকার করেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এরপর আক্তারুল ইসলামকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, সারগুলো কীভাবে গুদাম থেকে বের হয়েছে এবং সেগুলো কোথায় সরবরাহ বা বিক্রি করা হয়েছে—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূরনবী বলেন, এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বিএডিসি কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, নশিপুর এলাকায় কাঞ্চন ও স্টিল নামে সংস্থাটির দুটি সার গুদাম রয়েছে। গুদাম দুটির মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ১৮ হাজার মেট্রিক টন। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহের জন্য এসব গুদামে ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট, মিউরিয়েট অব পটাশ ও ট্রিপল সুপার ফসফেটসহ বিভিন্ন ধরনের সার সংরক্ষণ করা হয়।
সরকারি সার ব্যবস্থাপনায় মজুত, বিতরণ ও হিসাব সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই এত বড় পরিমাণ সার ঘাটতির ঘটনায় গুদামের নথিপত্র, মজুত রেজিস্টার, বিতরণসংক্রান্ত কাগজপত্র এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করা হবে বলে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা গেছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।


