কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৫
কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের হাসিমপুর বাঁধ এলাকায় রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বেকু দিয়ে বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালী স্থানীয় একটি মহল।
জানা গেছে, বালু উত্তোলনের মূল হোতারা এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় কোনো বাধা-বিপত্তি ছাড়াই এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এর আগে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অভিযান পরিচালনা করা হলেও কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর অদৃশ্য প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় আবারও শুরু হয়েছে বালু উত্তোলন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় এই চক্রের দৌরাত্ম্য থামছে না।
বালু উত্তোলনের পর তা ভারী ট্রাকে করে বাঁধের উপর দিয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। এতে হাসিমপুর বাঁধ ও আশপাশের বসতবাড়ি রয়েছে চরম ঝুঁকিতে।
সরেজমিনে মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাসিমপুর বাঁধ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বেকু দিয়ে পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন চলছে। উত্তোলিত বালু ড্রাম ট্রাক ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে সরকার হারাচ্ছে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব। পাশাপাশি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, যারা বালু উত্তোলনে জড়িত, তারা এতটাই প্রভাবশালী যে, কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।
স্থানীয়রা আরও জানান, বালু উত্তোলনের ফলে অনেক ফসলি জমি ইতিমধ্যেই বিলীন হয়ে গেছে। চরম ঝুঁকিতে রয়েছে হাসিমপুর বাঁধ। নদীতীরবর্তী বসতবাড়ি গুলো হয়ে উঠেছে ঝুঁকিপূর্ণ। ধুলাবালির কারণে এলাকার মানুষ নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
উল্লেখ্য, উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের হাসিমপুর বাঁধ এলাকায় গত ১৯ এপ্রিল (শনিবার) পুলিশের সহযোগিতায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। অভিযানে দুই মামলায় দুই ব্যক্তিকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিজয় কুমার জোয়াদ্দার।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিজয় কুমার জোয়ার্দার বলেন, ‘গত ১৯ এপ্রিল ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। শুনছি তারা আবারও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। কেউ যদি একই অপরাধ দ্বিতীয়বার করে, তাহলে জরিমানার পরিমাণ দ্বিগুণ হবে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, ‘জগন্নাথপুর ইউনিয়নের হাসিমপুর বাঁধের পাশ থেকে রাতের অন্ধকারে বালু উত্তোলনের খবর পেয়েছি। খুব দ্রুতই এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
খবরওয়ালা/আরডি