খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই মাঠে নেমে প্রতিপক্ষের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালাল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রেখে তারা কুরাসাওকে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত করেছে। এই বিশাল জয়টি ফুটবলপ্রেমীদের মনে করিয়ে দিয়েছে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপের সেই ঐতিহাসিক সেমিফাইনালের স্মৃতি, যেখানে পরাশক্তি ব্রাজিলকে তাদেরই মাটিতে ৭-১ গোলে পরাজিত করেছিল জার্মানরা। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে এই জয়ে জার্মানি টুর্নামেন্টের শুরুতেই নিজেদের শক্তিমত্তার এক কঠোর বার্তা দিয়ে রাখল।
ম্যাচের শুরু থেকেই কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত করে তোলে জার্মানির আক্রমণভাগ। প্রথমার্ধের খেলা শেষ হওয়ার আগেই তারা প্রতিপক্ষের জালে ৩টি গোল জড়াতে সক্ষম হয়। ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়ার পর, দ্বিতীয়ার্ধে জার্মানদের আক্রমণের ধার আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। বিরতির ঠিক পরপরই ইউরোপের এই দলটি কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করে একের পর এক আক্রমণ রচনা করতে থাকে।
ম্যাচের ৫২তম মিনিটে জার্মানির অন্যতম মিডফিল্ডার ইয়োশুয়া কিমিখের বাড়িয়ে দেওয়া চমৎকার একটি বল ধরে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে গোল করেন জামাল মুসিয়ালা। তার এই নান্দনিক গোলের মাধ্যমে দলের ব্যবধান আরও বৃদ্ধি পায়। এই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগ জার্মান আক্রমণের গতির কাছে সম্পূর্ণরূপে পরাস্ত হয়।
ম্যাচের ৬৮তম মিনিটে আক্রমণে উঠে এসে জার্মানির হয়ে পঞ্চম গোলটি সম্পন্ন করেন লেফটব্যাক নাথানিয়েল ব্রাউন। নিখুঁত এক সমাপ্তিতে তিনি দলকে আরও স্বস্তিদায়ক এবং অপরাজেয় অবস্থানে নিয়ে যান। গোল উৎসব অবশ্য সেখানেই থেমে থাকেনি। ম্যাচের ৭৮তম মিনিটে গোলদাতাদের তালিকায় নিজের নাম লেখান ডেনিজ উনদাভ। তার এই সফল লক্ষ্যভেদের পর জার্মানির পক্ষে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৬-১।
ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগ মুহূর্তে, অর্থাৎ ৮৮তম মিনিটে কুরাসাওয়ের জালে সপ্তম গোলটি করেন কাই হাভার্টজ। এটি ছিল ম্যাচে তার ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোল। এই গোলের মাধ্যমে জার্মানি ৭-১ ব্যবধানের এক বিশাল জয় নিশ্চিত করে। একের পর এক পরিকল্পিত ও গতিশীল আক্রমণে কুরাসাওকে পুরো ম্যাচ জুড়েই কোণঠাসা করে রেখেছিল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
নিচে টেবিলের মাধ্যমে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের গোলসমূহ এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি সুবিন্যস্তভাবে উপস্থাপন করা হলো:
| গোলের পর্যায় | সময় (মিনিট) | গোলদাতার নাম | গোল তৈরিতে সহায়তাকারী | ম্যাচের তাৎক্ষণিক ফলাফল |
| প্রথমার্ধ | বিরতির পূর্বে | জার্মান আক্রমণভাগ | দলীয় প্রচেষ্টা | জার্মানি ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় |
| চতুর্থ গোল | ৫২তম মিনিট | জামাল মুসিয়ালা | ইয়োশুয়া কিমিখ | জার্মানির পক্ষে ব্যবধান বৃদ্ধি পায় |
| পঞ্চম গোল | ৬৮তম মিনিট | নাথানিয়েল ব্রাউন | একক ও দলীয় আক্রমণ | স্কোরলাইন ৫-০ তে উন্নীত হয় |
| ষষ্ঠ গোল | ৭৮তম মিনিট | ডেনিজ উনদাভ | মধ্যমাঠের আক্রমণ | কুরাসাওয়ের এক গোলের বিপরীতে ব্যবধান হয় ৬-১ |
| সপ্তম গোল | ৮৮তম মিনিট | কাই হাভার্টজ | সমাপনী আক্রমণ | কাই হাভার্টজের দ্বিতীয় গোল এবং চূড়ান্ত স্কোর ৭-১ |
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই এমন দাপুটে পারফরম্যান্সের মাধ্যমে জার্মানি প্রমাণ করল যে তারা শিরোপার অন্যতম প্রধান দাবিদার। কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে জার্মান ফুটবলাররা যেভাবে গোল উৎসব মেতে উঠেছিলেন, তা আগামী ম্যাচগুলোতে তাদের আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে দেবে।