খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে মানবতাকে লজ্জিত করার মতো এক নৃশংস ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। উত্তর-পূর্ব দিল্লির ভজনপুরা এলাকায় মাত্র ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তিন কিশোরের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তদের বয়স যথাক্রমে ১৩, ১৪ ও ১৫ বছর। এই ঘটনাটি কেবল দিল্লির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেনি, বরং সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে কিশোর অপরাধের ভয়াবহতাকেও নগ্নভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
গত ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি সম্পর্কে জানা যায় যখন ভুক্তভোগী শিশুটি রক্তাক্ত এবং বিধ্বস্ত অবস্থায় বাড়িতে ফেরে। প্রাথমিক অবস্থায় শিশুটি ভয়ে পড়ে যাওয়ার কথা বললেও তার শরীরের আঘাতের ধরন দেখে মায়ের মনে সন্দেহ জাগে। বারবার জিজ্ঞাসাবাদের পর শিশুটি তার ওপর হওয়া অমানবিক নির্যাতনের বর্ণনা দেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত তিন কিশোর শিশুটিকে প্রলোভন দেখিয়ে একটি নির্জন বাড়ির ছাদে নিয়ে যায় এবং সেখানে এই জঘন্য অপরাধ সংঘটিত করে।
নিচে ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রধান তথ্যগুলো একটি টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
সারণি: ঘটনার বিবরণ ও আইনি পদক্ষেপের সারসংক্ষেপ
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| ঘটনার স্থান | ভজনপুরা, উত্তর-পূর্ব দিল্লি, ভারত |
| ঘটনার তারিখ | ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ |
| ভুক্তভোগী | ৬ বছর বয়সী এক শিশু কন্যা |
| অভিযুক্ত | ৩ জন কিশোর (বয়স: ১৩, ১৪ ও ১৫ বছর) |
| অভিযুক্তদের পেশা | স্থানীয় একটি কারখানার শ্রমিক |
| প্রযোজ্য আইন | ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) ও পকসো (POCSO) আইন |
| বর্তমান অবস্থা | অভিযুক্তরা আটক এবং কিশোর আদালতের অধীনে বিচারাধীন |
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় একটি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এক অভিযুক্ত কিশোরের মা। নিজের সন্তানের অপরাধ সম্পর্কে জানতে পেরে তিনি বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে নিজেই তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। ভুক্তভোগী শিশুটির মা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমি আমার মেয়ের এই অবস্থার জন্য দায়ী অপরাধীদের সর্বোচ্চ কঠিন শাস্তি চাই। এক অভিযুক্তের মা যেভাবে তার ছেলেকে ধরিয়ে দিয়েছেন, তা প্রশংসনীয় হলেও আমার মেয়ের যে ক্ষতি হয়েছে তা অপূরণীয়।”
দিল্লি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আশীষ মিশ্র জানিয়েছেন যে, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেছে। অভিযুক্তদের দ্রুত শনাক্ত করে আটক করা হয়েছে। যেহেতু তারা অপ্রাপ্তবয়স্ক, তাই তাদের আইন অনুযায়ী কিশোর আদালতে (Juvenile Justice Board) হাজির করা হয়েছে। পুলিশ ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে এবং পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ যাচাই করছে।
শিশুটিকে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নিয়ে মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে এবং যথাযথ চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া মানসিকভাবে বিপর্যস্ত শিশুটিকে ট্রমা থেকে কাটিয়ে তুলতে পেশাদার কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং যৌন অপরাধ থেকে শিশুদের সুরক্ষা (POCSO) আইনের অধীনে মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।
নয়াদিল্লির মতো জনবহুল এলাকায় দিনের আলোতে এমন ঘটনা সামাজিক নিরাপত্তাহীনতাকে প্রকট করে তুলেছে। সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, অল্প বয়সেই কারখানায় শ্রমদান এবং যথাযথ শিক্ষার অভাব এই কিশোরদের অপরাধপ্রবণ করে তুলছে।