খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 6শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১৮ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দীর্ঘ ৪,৩৫২ দিনের অপেক্ষার পর অবশেষে নেপালের ক্রিকেট দল টোয়েন্টি২০ বিশ্বকাপে তার ১২ বছরের শূন্যতার অবসান ঘটিয়েছে। মুম্বাইয়ের প্রতীকি ওয়ানখেডে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে নেপাল স্কটল্যান্ডকে সাত উইকেটে হারিয়ে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল। এটি দলের তৃতীয় টি২০ বিশ্বকাপ জয়, এর পূর্বে ২০১৪ সালে হংকং এবং আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয় ছিল।
এই বিজয়ের গুরুত্ব কেবল সংখ্যাত্মক নয়। শেষ সাফল্যের পর নেপালকে বিশ্বের মঞ্চে কয়েকটি হাড়কাঁপানো পরাজয় দেখতে হয়েছে। ২০২৪ সালের টুর্নামেন্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এক রানে হেরে যাওয়া এবং ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চার রানের নাড়ালো পরাজয় সমর্থকদের মনোবলকে চাপের মধ্যে রাখে। আজকের ম্যাচের জয় তাই শুধু সাফল্য নয়, এটি ধৈর্য, প্রতিকূলতা মোকাবেলার ফল।
স্কটল্যান্ড প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৭০ রান সংগ্রহ করে। ওপেনার মাইকেল জোন্স ব্যাটিংয়ে নেতৃত্ব দেন, ৭১ রানের ব্যালান্সড ইনিংস খেলেন, স্ট্রাইক রেট ১৪২.০। বল হাতে মাইকেল লিস্ক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন, ৩.৩৩ ইকোনমি রেটে ২ উইকেট নেন।
নেপালের চেজিং ম্যাচে দলের ক্যাপ্টেন দীপেন্দ্র সিং আয়রির জোড়া ইনিংস ছিল প্রধান। ২৩ বল থেকে ৫০ রান করে তিনি ২১৭.৪ স্ট্রাইক রেটে দলের পক্ষে দুর্দান্ত ভূমিকা রাখেন। শেষ পর্যন্ত গুলশান ঝা ১৭ বল থেকে অপরাজিত ২৪ রান যোগ করে নেপালকে ১৯.২ ওভারে জয় নিশ্চিত করতে সাহায্য করেন। শেষ ৫ ওভারে ৫৯ রান প্রয়োজন হওয়া সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে এই জয় স্মরণীয় হয়ে ওঠে।
| দল | রান/উইকেট | ওভার | শীর্ষ ব্যাটসম্যান | রান | স্ট্রাইক রেট | শীর্ষ বোলার | উইকেট | ইকোনমি |
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| স্কটল্যান্ড | ১৭০/৯ | ২০ | মাইকেল জোন্স | ৭১ | ১৪২.০ | মাইকেল লিস্ক | ২ | ৩.৩৩ |
| নেপাল | ১৭১/৩ | ১৯.২ | দীপেন্দ্র আয়রি* | ৫০* | ২১৭.৪ | মাইকেল লিস্ক | ১ | ৩.৫০ |
| গুলশান ঝা* | ২৪* | ১৪১.২ |
নেপালের সমর্থকরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। শেষ ওভারে দীপেন্দ্র আয়রির সাহসী ব্যাটিং এবং দলের দৃঢ় মনোবল নিশ্চিত করে এই বিজয়কে নেপালের ক্রিকেট ইতিহাসের একটি অনন্য মুহূর্তে পরিণত করে।
এই জয় শুধু একটি ম্যাচের ফল নয়, এটি ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞার গল্প। এটি নেপালের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন অধ্যায়ের সূচনা, এবং দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।