খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
ঢাকার মিরপুরে ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিজ বাসায় আত্মহত্যা করেছেন। ইকরার আত্মহত্যার পেছনে তাঁর স্বামীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ও দীর্ঘদিনের মানসিক নির্যাতনকে দায়ী করেছেন পরিবার ও ঘনিষ্ঠরা।
ইকরার বাবা কবির হায়াত খান বাদী হয়ে গত রোববার ঢাকার পল্লবী থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ১ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে জাহের আলভীকে এবং ২ নম্বর আসামি হিসেবে তাঁর মা নাসরিন সুলতানা শিউলিকে। ইকরার বড় মামা শেখ তানভীর আহমেদ প্রথম আলোকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
২০১৩ সালে প্রেমের সম্পর্কের পর আফরা ইভনাথ খান ইকরার সঙ্গে জাহের আলভীর বিয়ে হয়। বিয়ের পাঁচ বছর পর তাদের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। তবে দাম্পত্য জীবনের শুরু থেকেই মানসিক নির্যাতন এবং পারিবারিক চাপের অভিযোগ ওঠে।
ইকরার পরিবার জানায়, প্রায় দুই বছর আগে ইকরা জানতে পারেন যে, জাহের আলভী অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে রয়েছেন। এর পর থেকে দম্পতির মধ্যে বিরোধ ক্রমবর্ধমান হয়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, জাহের আলভী এবং তার মা ইকরাকে প্রায়ই মানসিক নির্যাতন করতেন। জাহের আলভী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইকরাকে উদ্দেশ্য করে অপমানজনক পোস্ট করতেন। ২৭ ফেব্রুয়ারি তিনি এক নারীর সঙ্গে ছবি পোস্ট করেন, যা ইকরার মানসিক কষ্ট আরও বৃদ্ধি করে।
পরিবারের দাবি অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের অপমান, উসকানি এবং মানসিক নির্যাতনের কারণে ইকরা আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ইকরার মামা এস এম জায়েদ আল ফাত্তাহকে ফোনে নাসরিন সুলতানা জানান, মিরপুর ডিওএইচএসের বাসায় ইকরা নিজের কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে ইকরাকে মৃত অবস্থায় দেখেন। পল্লবী থানার পুলিশ ঘটনার স্থান পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা নেন।
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| ঘটনার তারিখ | ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |
| স্থান | মিরপুর, ঢাকা |
| মৃত ব্যক্তির নাম | আফরা ইভনাথ খান ইকরা |
| বিয়ে | ২০১৩, জাহের আলভীর সঙ্গে |
| পুত্রসন্তান | ১ জন, বয়স ৫ বছর |
| ১ নম্বর আসামি | জাহের আলভী |
| ২ নম্বর আসামি | নাসরিন সুলতানা শিউলি |
| মামলা দায়ের স্থান | পল্লবী থানা, ঢাকা |
| মামলা দায়ের তারিখ | ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী রোববার |
| বাদী | কবির হায়াত খান (ইকরার বাবা) |
পরিবার ও স্বজনেরা দাবি করেছেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন হওয়া উচিত। তারা আশা করছেন, আইনের মাধ্যমে জাহের আলভী এবং নাসরিন সুলতানা যথাযথ শাস্তি পাবেন।
মৃত্যুর আগে ইকরার মানসিক চাপ এবং পারিবারিক অশান্তি দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। পরিবারে অভিযোগ, বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও কোন কার্যকর ফলাফল আসে নি। এই ঘটনা সমাজে বিবাহিত নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব এবং পারিবারিক সহিংসতার প্রভাবের বিষয়টি নতুনভাবে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে, মানসিক স্বাস্থ্যের সচেতনতা এবং পারিবারিক সহানুভূতির গুরুত্ব সম্পর্কে সমালোচনার পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়গুলোও বিশেষভাবে বিবেচনার দাবি তুলেছে ইকরার পরিবার।