খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে মাঘ ১৪৩২ | ৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আজ সকালে জেলখানায়, বিনা চিকিৎসায়, নিঃশব্দে মৃত্যুবরণ করেছেন রমেশ চন্দ্র সেন।
রাষ্ট্রের হেফাজতে থাকা একজন মানুষ—একজন সাবেক মন্ত্রী, শিক্ষক, রাজনীতিক—চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেলেন। পুলিশের নিরাপত্তায় আজ জেল থেকে বের হলো তার নিথর দেহ। এই দৃশ্য শুধু একটি মৃত্যুই নয়, এটি আমাদের রাজনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থার এক নগ্ন দলিল।
রমেশ সেন ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর—দুজনের জীবনপথ আশ্চর্য রকমের মিল আর বৈপরীত্যে ভরা।
দুজনই শিক্ষকতা করেছেন।
দুজনই রাজনীতিতে এসেছেন তৃণমূল থেকে।
দুজনই মন্ত্রী ছিলেন।
দুজনই নিজ নিজ দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের সদস্য ছিলেন।
কিন্তু ইতিহাসের দাঁড়িপাল্লায় তাদের অবস্থান এক নয়।
রমেশ সেন আমৃত্যু আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে থেকেছেন।
মির্জা ফখরুল ছাত্র ইউনিয়ন ও ন্যাপ ঘুরে আজ বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে।
আরও গভীর এক বৈপরীত্য আছে—মির্জা ফখরুলের পরিবার একাত্তরে যে জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন চালিয়েছিল, রমেশ সেন ছিলেন সেই নির্যাতিত জনগোষ্ঠীরই একজন।
৫ আগস্টের পর রমেশ সেন ছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের নিজ বাড়িতে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি টিম গিয়ে তাকে “নিরাপত্তা” দেওয়ার কথা বলে আধাঘণ্টার জন্য নিয়ে যায়। পরদিন অজ্ঞাত এক ছাত্রের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর আর তিনি বাড়ি ফেরেননি—ফিরেছেন লাশ হয়ে।
তৃণমূল রাজনীতির পুরস্কার হিসেবে রমেশ সেন পেয়েছিলেন কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী ফোরামের দায়িত্ব, পেয়েছিলেন মন্ত্রীত্ব। দল তাকে সম্মান দিয়েছিল। গত পনেরো বছর ধরে যারা ঠাকুরগাঁও যাতায়াত করেছেন, তারা জানেন—রমেশ সেন জেলায় কী করেছেন, কী রেখে গেছেন। সেই ইতিহাস মুছে যাবে না।
রমেশ সেন ছিলেন নিঃসন্তান। স্ত্রী অঞ্জলী সেনকে নিয়ে তিনি আজীবন একাই দাঁড়িয়ে ছিলেন। আর ছিল জনতা। মৃত্যুর সময় স্ত্রীও পাশে থাকতে পারেননি। কিন্তু এই মৃত্যু জনতা ভুলে যাবে না—ভুলতে পারবে না। তার ভক্তরা তো নয়ই।
এই মৃত্যু আমাকে তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী মির্জা ফখরুলের কথাই ভাবাচ্ছে।
বিএনপিতে তার সর্বোচ্চ সম্মানিত হওয়ার কথা ছিল। অথচ আজ তিনি দলে অপ্রাসঙ্গিক, আর দেশে হাস্যরসের পাত্রে পরিণত হয়েছেন। জানি না সামনে কী অপেক্ষা করছে তার জন্য। স্ত্রী, দুই মেয়ে, জামাই—সবাই মিলেও তার হারানো মর্যাদা রক্ষা করতে পারছেন না।
রমেশ সেন চলে গেলেন নিঃসঙ্গতায়, কিন্তু সম্মান আর স্মৃতি রেখে।
মির্জা ফখরুল বেঁচে আছেন—কিন্তু তার রাজনৈতিক সমাপ্তি যেন ধীরে ধীরে, চোখের সামনেই লেখা হচ্ছে।
আগামীতে সেই সমাপ্তি দেখার অপেক্ষায় থাকলো দেশের জনগন।