খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর চেয়ারম্যান ড. আবদুল মোমেনসহ তিন কমিশনার মঙ্গলবার (৩ মার্চ) আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। তারা সকালের দিকে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পৌঁছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগের মাধ্যমে দুদকের শীর্ষ স্তরের নেতৃত্ব সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তনের পথে গেল।
পদত্যাগ করা অন্যান্য দুই কমিশনার হলেন মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী এবং হাফিজ আহ্সান ফরিদ। তাদের তিনজনই দুপুর ২টা ৩৬ মিনিটে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক নম্বর ভবনে প্রবেশ করেন এবং প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যেই পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে বের হন।
ড. আবদুল মোমেনের কর্মজীবনটি দীর্ঘ এবং আলোচিত। ২০১৩ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তাকে যুগ্ম সচিব পদে দায়িত্ব পালন করার সময় বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান করা হয়েছিল। এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও সরকারের পরিবর্তনের পর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে তাকে সিনিয়র সচিবের পদমর্যাদা দেওয়া হয়।
এক নজরে দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগসমূহ:
| নাম | পদ ও দায়িত্ব | নিয়োগের সময়কাল |
|---|---|---|
| ড. আবদুল মোমেন | যুগ্ম সচিব (২০১৩) | বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্ত |
| ড. আবদুল মোমেন | স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জননিরাপত্তা বিভাগ সচিব (চুক্তিভিত্তিক) | ৫ আগস্ট ২০২৪ |
| ড. আবদুল মোমেন | দুদক চেয়ারম্যান | ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ |
| মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী | দুদক কমিশনার | ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ |
| হাফিজ আহ্সান ফরিদ | দুদক কমিশনার | ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ |
২০২৪ সালের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ড. আবদুল মোমেনের দুর্নীতিবিরোধী বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য আলোচনা সৃষ্টি করেছিল। তিনি একাধিকবার ভোটারদের দুর্নীতিবাজদের প্রতি ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মন্তব্য হয়।
দুদকসহ সরকারি কমিটি এবং স্বচ্ছতা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের পদত্যাগ সাধারণত নতুন নেতৃত্ব নিয়োগের পথ সুগম করে। এখন প্রশাসনকে নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের নিয়োগের মাধ্যমে সংস্থার কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।
পদত্যাগের এই ঘটনা দেশীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও দুর্নীতি দমন নীতি নিয়ে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নতুন কমিশনারদের নিয়োগের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সময়মতো সম্পন্ন হলে দুদকের কার্যক্রমে সুষ্ঠু পরিবর্তন আসবে।
এই পদত্যাগের ফলে দুদক একটি অস্থায়ী শূন্যপদ পরিস্থিতিতে পড়েছে, যা দ্রুত সমাধান করা জরুরি।