খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২ মে ২০২৬
বাংলাদেশের লোকনাট্য ও যাত্রা শিল্পের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র জোৎস্না বিশ্বাস—যাঁকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। নিজ প্রতিভা, পরিশ্রম ও গভীর শিল্পনিবেদন দিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন ‘যাত্রা সম্রাজ্ঞী’—এক অনন্য মর্যাদার অধিকারিণী।
তিনি প্রখ্যাত নটরাজ অমলেন্দু বিশ্বাস-এর সহধর্মিণী। তাঁদের পরিবারও শিল্প ও সংস্কৃতির ধারক ও বাহক হিসেবে সুপরিচিত। তাঁদের কন্যা অরুণা বিশ্বাস চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের একজন প্রতিষ্ঠিত অভিনয়শিল্পী, আর পুত্র মিঠু বিশ্বাস নাট্যনির্মাতা হিসেবে কাজ করে চলেছেন। শিল্পের প্রতি এই পারিবারিক নিবেদন তাঁকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
জোৎস্না বিশ্বাস ২ মে সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। যদিও অনেকেই তাঁকে মানিকগঞ্জের মেয়ে হিসেবে জানেন, কারণ যাত্রাশিল্পীদের সুবিধার্থে তাঁর পরিবার মানিকগঞ্জের জাবরা গ্রামে একটি স্থায়ী সাংস্কৃতিক আবাস গড়ে তোলে। তবুও তাঁর শিকড়, শৈশব ও সাংস্কৃতিক বিকাশের ভিত্তি সিরাজগঞ্জেই প্রোথিত।
শৈশব থেকেই তাঁর মধ্যে সঙ্গীত, অভিনয় ও মঞ্চশিল্পের প্রতি গভীর অনুরাগ দেখা যায়। ১৯৬০ সালে অভিনয় জীবনের সূচনা করে তিনি ধীরে ধীরে যাত্রা জগতের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন। জীবদ্দশায় তিনি প্রায় তিন শতাধিক যাত্রাপালায় অংশগ্রহণ করেন। তাঁর শক্তিশালী সংলাপ উপস্থাপন, আবেগঘন অভিনয় এবং চরিত্রের গভীরতা ফুটিয়ে তোলার ক্ষমতা তাঁকে দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন দিয়েছে।
মঞ্চের পাশাপাশি তিনি টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। লোকসংস্কৃতি সংরক্ষণ, গবেষণা এবং শিল্প বিষয়ক লেখালেখিতেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। তিনি বহু সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে নবীন শিল্পীদের অনুপ্রাণিত করেছেন এবং যাত্রাশিল্পের ঐতিহ্য ধরে রাখতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন।
শিল্পে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০১১ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন। এছাড়াও তিনি বাবিসাস আজীবন সম্মাননা ২০১৫, বগুড়ার আমরা কজন শিল্পী গোষ্ঠীর স্বর্ণখচিত মুকুট ২০১০ এবং নাগরিক নাট্যসম্প্রদায় সম্মাননাসহ বহু পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
বর্তমানে তিনি প্রবাস জীবনে ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতিকে নিয়ে কানাডার টরন্টোতে বসবাস করছেন। প্রবাসে থেকেও তিনি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও বাঙালি কমিউনিটির শিল্পচর্চার সঙ্গে যুক্ত থাকেন, যা তাঁকে আরও প্রাসঙ্গিক ও প্রেরণাদায়ী করে তুলেছে।
এই বিশেষ দিনে বরেণ্য এই শিল্পীর প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা ও আন্তরিক শুভেচ্ছা। তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং সৃজনশীল পথচলা আরও সমৃদ্ধ হোক—এই কামনা রইল।