খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২ মে ২০২৬
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার তিন ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নাটকীয় মোড় নিয়েছে। বাংলাদেশের দেওয়া ১০৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে টাইগার পেসার শরীফুল ইসলামের গতির মুখে পড়ে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে সফরকারী নিউজিল্যান্ড। মাত্র ২৫ রানের মধ্যে কিউইদের ৩ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচটিতে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন শরীফুল।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে দাপুটে জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছিল। ফলে আজকের ম্যাচটি ছিল বাংলাদেশের জন্য সিরিজ জয়ের সুবর্ণ সুযোগ, আর নিউজিল্যান্ডের জন্য সমতায় ফেরার লড়াই। টস জিতে নিউজিল্যান্ড ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলে বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামে। বৃষ্টির কারণে ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমিয়ে ১৫ ওভারে নামিয়ে আনা হলেও স্বাগতিক দল পুরো ওভার খেলতে সক্ষম হয়নি। মাত্র ১৪.২ ওভারে ১০২ রান সংগ্রহ করতেই অলআউট হয়ে যায় টাইগাররা।
বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটা ভালো ছিল। ওপেনার সাইফ হাসান ১০ বলে ১৬ রান করে প্রাথমিক গতি এনে দেওয়ার চেষ্টা করলেও ব্যক্তিগত টাইমিংয়ের ভুলে দলীয় ২১ রানে বিদায় নেন। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতন শুরু হয়। তানজিদ হাসান তামিম এবং চার নম্বরে নামা পারভেজ হোসেন ইমন দুজনেই ৩৫ রানের মাথায় আউট হন। অধিনায়ক লিটন দাস ১৭ বলে ২৩ রানের একটি সংক্ষিপ্ত ইনিংস খেললেও স্কোর খুব বেশি বড় করতে পারেননি। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৩ রান আসে তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাট থেকে; তিনি ২৪ বলের ইনিংসে ৩টি চার ও ২টি ছক্কা হাঁকান। দলের ৮ জন ব্যাটসম্যানই ব্যক্তিগত রানের দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৯১ বলে ১০৩ রানের লক্ষ্যে খেলতে শুরু করে নিউজিল্যান্ড। তবে টাইগার পেসার শরীফুল ইসলাম শুরু থেকেই নিউজিল্যান্ডের টপ অর্ডারকে চাপে ফেলে দেন। মাত্র ৩ ওভার বল করে ১৯ রান খরচায় ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন তিনি। শরীফুলের তোপে পড়ে সফরকারী দল মাত্র ২৫ রানে তাদের প্রথম সারির ৩ ব্যাটসম্যানকে হারায়। পরবর্তীতে দলীয় ৩৩ রানে নিক কেলিকে ফিরিয়ে দেন অফ-স্পিনার মেহেদী হাসান, যা নিউজিল্যান্ডকে আরও কোণঠাসা করে ফেলে।
নিচে বাংলাদেশের ব্যাটিং এবং নিউজিল্যান্ডের টপ অর্ডারের পতনের একটি সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| ম্যাচ টাইপ | তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি |
| টস জয়ী | নিউজিল্যান্ড (ফিল্ডিং গ্রহণ) |
| বাংলাদেশের স্কোর | ১০২/১০ (১৪.২ ওভার) |
| সর্বোচ্চ রান (বাংলাদেশ) | তাওহীদ হৃদয় (৩৩ রান, ২৪ বল) |
| শরীফুল ইসলামের স্পেল | ৩ ওভার, ১৯ রান, ৩ উইকেট |
| নিউজিল্যান্ডের স্কোর (বিপর্যয়কালীন) | ৩৩/৪ |
এই ম্যাচটি বাংলাদেশ জিতলে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বা ঘরের মাঠে তাদের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের নতুন এক ইতিহাস গড়বে। বর্তমানে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশের জন্য লক্ষ্য ছিল যেকোনো মূল্যে অল্প পুঁজি নিয়ে কিউইদের রুখে দেওয়া। বৃষ্টির কারণে মাঠের আউটফিল্ড কিছুটা মন্থর থাকলেও শরীফুল ইসলামের ইনসুইং ও গতির কাছে পরাস্ত হন কিউই ব্যাটসম্যানরা।
মিরপুরের পিচে বরাবরই স্পিনাররা সুবিধা পেয়ে থাকলেও আজকের ম্যাচে শরীফুলের পেস বোলিং ছিল অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। ১০২ রানের ছোট পুঁজি নিয়ে যেভাবে শরীফুল ও মেহেদী হাসান পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছেন, তাতে জয়ের আশা আরও উজ্জ্বল হয়েছে বাংলাদেশের জন্য। কিউইরা এখন তাদের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ওপর নির্ভর করছে ম্যাচটি উদ্ধার করার জন্য, অন্যদিকে বাংলাদেশ বাকি উইকেটগুলো দ্রুত তুলে নিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করতে মরিয়া।