খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২ মে ২০২৬
ভারত সরকার বিমা খাতে বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগের (FDI) ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। শনিবার কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বিমা সংস্থাগুলোতে ‘অটোমেটিক রুট’ বা স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ১০০ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগের অনুমতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভারতের বিমা বাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের পথ আরও প্রশস্ত হলো। তবে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিমা সংস্থা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া (এলআইসি)-এর ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। এলআইসিতে বিদেশি বিনিয়োগের সীমা আগের মতোই ২০ শতাংশ রাখা হয়েছে।
শিল্প ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য প্রচার বিভাগ (DPIIT) তাদের ২০২৬ সিরিজের ১ নম্বর প্রেস নোটে জানিয়েছে যে, অভ্যন্তরীণ বিমা কোম্পানিগুলোতে পোর্টফোলিও ইনভেস্টরসহ বিদেশি বিনিয়োগ এখন থেকে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে অনুমোদিত হবে। তবে এই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিমা নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (IRDAI)-এর নিয়ন্ত্রণমূলক ছাড়পত্র এবং যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক।
এই নীতিগত পরিবর্তনটি ‘সবকা বিমা সবকি রক্ষা (বিমা আইন সংশোধন) আইন, ২০২৫’-এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে করা হয়েছে। এর আগে অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল যে, আইনটির ২৫ নম্বর ধারা ব্যতীত অন্যান্য সকল বিধান ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। বিদেশি শেয়ারহোল্ডিং বৃদ্ধির ক্ষেত্রে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (RBI) এবং ফরেন এক্সচেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট (FEMA)-এর নির্ধারিত মূল্যের নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে।
নতুন এই ১০০ শতাংশ বিনিয়োগের সীমা কেবল মূল বিমা কোম্পানিগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি বিমা খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। এর মধ্যে রয়েছে:
বিমা ব্রোকার ও রি-ইন্সুরেন্স ব্রোকার।
কর্পোরেট এজেন্ট ও থার্ড পার্টি অ্যাডমিনিস্ট্রেটর (TPA)।
সার্ভেয়ার এবং লস অ্যাসেসর।
ম্যানেজিং জেনারেল এজেন্ট এবং ইন্স্যুরেন্স রিপোজিটরি।
তবে ব্যাংকগুলো যদি বিমা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে, তবে তাদের ক্ষেত্রে সেই নির্দিষ্ট খাতের বিনিয়োগ সীমা প্রযোজ্য হবে। যদি কোনো আর্থিক বছরে কোনো ব্যাংকের মোট আয়ের ৫০ শতাংশের বেশি বিমা বহির্ভূত খাত থেকে আসে, তবে তাদের মূল খাতের (ব্যাংকিং) এফডিআই নিয়ম মেনে চলতে হবে। এছাড়া, সংখ্যাগরিষ্ঠ বিদেশি মালিকানাধীন মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই কোম্পানি আইন, ২০১৩-এর অধীনে লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হতে হবে।
ভারতের বিমা খাতে বিদেশি বিনিয়োগের বিবর্তন এবং বর্তমান অবস্থা নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| খাতের ধরন | পূর্ববর্তী বিনিয়োগ সীমা | বর্তমান বিনিয়োগ সীমা (২০২৬) | অনুমোদনের পদ্ধতি |
| বেসরকারি বিমা কোম্পানি | ৭৪% | ১০০% | স্বয়ংক্রিয় (Automatic) |
| বিমা মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান | ১০০% (২০২০ সাল থেকে) | ১০০% | স্বয়ংক্রিয় (Automatic) |
| এলআইসি (LIC) | ২০% (২০২২ সাল থেকে) | ২০% | স্বয়ংক্রিয় (Automatic) |
| ব্যাংক-বিমা মধ্যস্থতাকারী | ব্যাংকিং খাতের নিয়ম অনুযায়ী | ব্যাংকিং খাতের নিয়ম অনুযায়ী | নির্দিষ্ট নীতিমালা সাপেক্ষে |
ভারত সরকার ধাপে ধাপে বিমা খাতে বিনিয়োগের সীমা বৃদ্ধি করেছে। ২০২০ সালে বিমা মধ্যস্থতাকারী খাতে ১০০ শতাংশ এফডিআই-এর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল এবং ২০২২ সালে এলআইসিতে ২০ শতাংশ বিনিয়োগের পথ খোলা হয়। নতুন এই সংশোধনী ভারতের বিমা খাতের মূলধনের ঘাটতি পূরণ করতে এবং বিমার প্রসার (Insurance Penetration) বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
IRDAI-এর কড়া নজরদারিতে বিদেশি পুঁজি আসার ফলে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং বিমা পণ্যগুলোতে বৈচিত্র্য আসবে। তবে দেশের বৃহত্তম বিমা সংস্থা এলআইসির কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনা করে এর বিদেশি বিনিয়োগের সীমা পরিবর্তন করা হয়নি, যা সরকারের নিয়ন্ত্রিত বিমা কাঠামোর অংশ হিসেবেই বজায় থাকছে।