খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২ মে ২০২৬
নাটোর জেলার লালপুর উপজেলায় প্রবাসীদের লক্ষ্য করে পরিচালিত একটি সংঘবদ্ধ হ্যাকিং চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। শুক্রবার (১ মে, ২০২৬) দিবাগত রাতে উপজেলার দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের পানসিপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত তরুণরা দীর্ঘদিন ধরে আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে প্রবাসীদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট দখল করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
লালপুর থানার একটি দক্ষ অভিযানিক দল নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন এসআই মো. মুনসুপ আলী, এসআই আল মাসুম এবং এএসআই মো. আনছার আলী। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা পানসিপাড়া গ্রামের জনৈক রফিজ মণ্ডলের বসতবাড়িতে হানা দেন, যেখানে এই চক্রটি ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছিল।
গ্রেপ্তারকৃত অভিযুক্তদের বিস্তারিত পরিচয় নিচে তুলে ধরা হলো:
| ক্রমিক | নাম | বয়স | পিতার নাম | গ্রাম |
| ০১ | বাসেদ আলী | ১৭ বছর | রফিজ মণ্ডল | পানসিপাড়া |
| ০২ | আব্দুল্লাহ | ১৯ বছর | আশরাফ আলী | পানসিপাড়া |
| ০৩ | আব্দুল্লাহ আল বায়োজিদ | ১৮ বছর | বাচ্চু মণ্ডল | পানসিপাড়া |
| ০৪ | লালন আলী | ২১ বছর | সুলতান আলী | নওয়াপাড়া |
| ০৫ | শাকিল | ১৯ বছর | শাহিনুর রহমান | নওয়াপাড়া |
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই চক্রটি মূলত দেশের বাইরে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের টার্গেট করত। তারা অ্যানড্রয়েড মোবাইল ফোন এবং উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে বিশেষ সফটওয়্যার বা ফিশিং লিংকের মাধ্যমে প্রবাসীদের ইমো (Imo), হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp), ফেসবুক (Facebook) এবং মেসেঞ্জার (Messenger) আইডি হ্যাক করত।
অ্যাকাউন্টগুলো নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর তারা সংশ্লিষ্ট প্রবাসীদের পরিচিতজন এবং আত্মীয়-স্বজনের কাছে জরুরি বিপদের কথা বলে অর্থ দাবি করত। প্রবাসীদের ব্যক্তিগত তথ্য ও পরিচিতি ব্যবহার করায় সাধারণ মানুষ সরল বিশ্বাসে তাদের বিকাাশ বা নগদের মতো মোবাইল ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্মে টাকা পাঠিয়ে দিতেন। এভাবে চক্রটি গত কয়েক মাসে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
অভিযান শেষে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে হ্যাকিংয়ে ব্যবহৃত বেশ কিছু স্মার্টফোন এবং সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে। এই ডিভাইসগুলোতে হ্যাকিং এবং অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও প্রচলিত দণ্ডবিধির আওতায় আসামিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করার এই প্রবণতা রোধে পুলিশ অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। হ্যাকিং চক্রের সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে রিমান্ডের আবেদনসহ অধিকতর তদন্ত করা হবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ নাগরিকদের বিশেষ করে প্রবাসীদের পরিবারকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো অপরিচিত লিংকে ক্লিক না করা এবং অর্থ লেনদেনের আগে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করার মাধ্যমে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।