খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২ মে ২০২৬
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) প্রতি বছর মে মাসের শুরুতে দলগুলোর বাৎসরিক পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে র্যাঙ্কিং হালনাগাদ করে থাকে। ২০২৬ সালের হালনাগাদ তথ্যে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল ওয়ানডে ফরম্যাটে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে। অন্যদিকে, পুরুষদের টেস্ট ক্রিকেটে শীর্ষ তিনের অবস্থানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে।
আইসিসির প্রকাশিত সর্বশেষ বার্ষিক র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, নারী ওয়ানডে ক্রিকেটে এক ধাপ উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে নিগার সুলতানার দল বর্তমানে তালিকার সপ্তম স্থানে অবস্থান করছে। এই র্যাঙ্কিং নির্ধারণে আইসিসি বিগত তিন বছরের পারফরম্যান্স বিবেচনা করেছে।
গণনা পদ্ধতি:
আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা (Cycle) অনুসরণ করে। ২০২৬ সালের এই বার্ষিক আপডেটে ২০২৫ সালের ১ মে থেকে ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময়কালের পারফরম্যান্সকে ১০০ শতাংশ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর আগের দুই বছরের পারফরম্যান্সকে ৫০ শতাংশ ওয়েটেজে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এই ধারাবাহিক সাফল্যের ফলেই বাংলাদেশ ৭৩ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম স্থান দখল করেছে।
শীর্ষস্থানীয় দলগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া বরাবরের মতোই নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে। ১৬৩ পয়েন্ট নিয়ে তারা টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে থাকা ইংল্যান্ড ও ভারতের মধ্যে লড়াই ছিল হাড্ডাহাড্ডি, যেখানে মাত্র ২ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে আছে ইংল্যান্ড।
আইসিসি নারী ওয়ানডে র্যাঙ্কিং ২০২৬ (শীর্ষ ১০):
| অবস্থান | দলের নাম | রেটিং পয়েন্ট | পরিবর্তন |
| ১ | অস্ট্রেলিয়া | ১৬৩ | অপরিবর্তিত |
| ২ | ইংল্যান্ড | ১২৮ | অপরিবর্তিত |
| ৩ | ভারত | ১২৬ | অপরিবর্তিত |
| ৪ | দক্ষিণ আফ্রিকা | ১০০ | অপরিবর্তিত |
| ৫ | নিউজিল্যান্ড | ৯৩ | অপরিবর্তিত |
| ৬ | শ্রীলঙ্কা | ৮৯ | অপরিবর্তিত |
| ৭ | বাংলাদেশ | ৭৩ | ১ ধাপ উন্নতি |
| ৮ | পাকিস্তান | – | ১ ধাপ অবনতি |
| ৯ | ওয়েস্ট ইন্ডিজ | – | অপরিবর্তিত |
| ১০ | আয়ারল্যান্ড | – | অপরিবর্তিত |
পুরুষদের টেস্ট ক্রিকেটে বার্ষিক হালনাগাদে শীর্ষ স্থানে কোনো পরিবর্তন না এলেও পরবর্তী অবস্থানে রদবদল হয়েছে। ১৩১ পয়েন্ট নিয়ে টেস্টের রাজত্ব ধরে রেখেছে অস্ট্রেলিয়া। তবে বর্তমান বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী দল হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা ১১৯ পয়েন্ট নিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় স্থানটি সুসংহত করেছে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে তৃতীয় অবস্থানে। ইংল্যান্ডকে টপকে ১০৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে ভারত। ১০২ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে নেমে গেছে ইংল্যান্ড। নিউজিল্যান্ড তাদের পঞ্চম স্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এশিয়ার অন্য দলগুলোর মধ্যে পাকিস্তান এক ধাপ উন্নতি করে ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে, যার ফলে শ্রীলঙ্কা নেমে গেছে সপ্তম স্থানে।
টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
বাংলাদেশ: টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ নবম স্থানে স্থির রয়েছে।
আয়ারল্যান্ড: ন্যূনতম সংখ্যক ম্যাচ না খেলার কারণে র্যাঙ্কিং থেকে ছিটকে গেছে আয়ারল্যান্ড। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অন্তত ৮টি টেস্ট খেলা বাধ্যতামূলক।
আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ড: পুনরায় র্যাঙ্কিং তালিকায় ফিরতে হলে আগামী এক বছরের মধ্যে এই দুই দেশকেই অন্তত ২টি করে টেস্ট ম্যাচ খেলতে হবে।
আইসিসি তাদের বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, বর্তমান চক্রের বাকি ফরম্যাটগুলোর বার্ষিক র্যাঙ্কিংও দ্রুতই প্রকাশ করা হবে। আগামী ৫ মে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট এবং ৭ মে পুরুষদের ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের বার্ষিক হালনাগাদ তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করার কথা রয়েছে। মূলত বড় টুর্নামেন্ট ও দ্বিপাক্ষিক সিরিজের পর নিয়মিত র্যাঙ্কিং পরিবর্তন হলেও বার্ষিক হালনাগাদটি দলগুলোর দীর্ঘমেয়াদী সক্ষমতার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হয়।