খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২ মে ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২ মে, ২০২৬) দুপুরে উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের সোনাবো এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুরা স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থী ছিল। এই ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, শনিবার দুপুরে সোনাবো এলাকায় নিজেদের বাড়ির পাশের একটি পুকুরে গোসল করতে নামে ফারিয়া (৮) ও টুম্পা (৭)। গোসল করার একপর্যায়ে ফারিয়া হঠাৎ গভীর পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করে। তাকে উদ্ধার করার চেষ্টায় টুম্পা এগিয়ে গেলে সে-ও পানির নিচে তলিয়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ তাদের কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা পুকুরে তল্লাশি শুরু করেন।
পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন তাদের সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দুই শিশুকেই মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত দুই শিশুর পরিবারই জীবিকার তাগিদে সুনামগঞ্জ জেলা থেকে এসে রূপগঞ্জে বসবাস করছিল। তাদের মা-বাবা স্থানীয় পোশাক কারখানায় শ্রমিকের কাজ করেন। নিচে নিহতদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দেওয়া হলো:
| তথ্য | ১ম শিশু (ফারিয়া) | ২য় শিশু (টুম্পা) |
| বাবার নাম | দ্বীন ইসলাম | মাসুদ মিয়া |
| স্থায়ী ঠিকানা | ধনপুর, দিরাই, সুনামগঞ্জ | রফিনগর, দিরাই, সুনামগঞ্জ |
| বর্তমান ঠিকানা | সোনাবো (মমিনের বাড়ি), রূপগঞ্জ | সোনাবো (আলাউদ্দীনের বাড়ি), রূপগঞ্জ |
| শিক্ষা প্রতিষ্ঠান | লিটল কিন্ডারগার্টেন স্কুল | লিটল কিন্ডারগার্টেন স্কুল |
| শ্রেণি | দ্বিতীয় শ্রেণি | প্রথম শ্রেণি |
ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পর রূপগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, পুকুরে গোসল করতে নেমে অসাবধানতাবশত এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালাউদ্দিন আহমেদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ থাকলে সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাংলাদেশে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু পানিতে ডুবে প্রাণ হারায়। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে এবং বর্ষার শুরুতে জলাশয়গুলোতে শিশুদের অবাধ বিচরণ এই ঝুঁকির মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। রূপগঞ্জের এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করে যে, কর্মজীবী অভিভাবকদের অনুপস্থিতিতে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কতটা জরুরি। সচেতন মহলের মতে, শিশুদের সাতার শেখানো এবং জলাশয়ের পাশে তাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে সজাগ দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সোনাবো এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে। নিহত শিশুদের মরদেহ দাফনের জন্য তাদের গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।