ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় বৃষ্টির পানিতে ধানখেত তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে এক কৃষকের আকস্মিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকাল আটটার দিকে গোয়ালনগর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্থানীয় কৃষক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অতিবৃষ্টিতে ফসলহানির শোক সহ্য করতে না পেরে তিনি জমিতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে মৃত্যুবরণ করেন।
নিহত কৃষকের নাম আহাদ মিয়া (৫৫)। তিনি রামপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং কৃষিকাজের ওপর নির্ভর করেই জীবিকা নির্বাহ করতেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আহাদ মিয়া ছয় বিঘা জমিতে ব্রি–২৯ জাতের ধান আবাদ করেছিলেন। চলমান মৌসুমি বৃষ্টিপাতে তাঁর পুরো জমির ধান পানিতে তলিয়ে যায়। সকালে শ্রমিকদের নিয়ে তিনি ধান কাটতে জমিতে গেলে এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান। মুহূর্তের মধ্যেই তিনি অচেতন হয়ে মাটিতে পড়ে যান।
পরিবারের সদস্যরা জানান, আহাদ মিয়া কৃষিঋণ নিয়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন এই আবাদে। ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার দৃশ্য তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা, মানসিক চাপ ও আকস্মিক শারীরিক প্রতিক্রিয়ার কারণে তিনি হৃদ্যন্ত্রজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে গোয়ালনগর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলের ধানক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে। শুধু আহাদ মিয়ার ক্ষেতই নয়, পুরো এলাকায় হাজার হাজার বিঘা জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক কৃষক খলায় রাখা ধানও রক্ষা করতে পারেননি, সেগুলোও পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে।
ঘটনার পর শ্রমিক ও স্থানীয় লোকজন আহাদ মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। পরে পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুপুরে জানাজা শেষে তাকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।
নিচে ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় |
বিবরণ |
| নিহত কৃষক |
আহাদ মিয়া (৫৫) |
| এলাকা |
রামপুর গ্রাম, গোয়ালনগর ইউনিয়ন |
| জমির পরিমাণ |
৬ বিঘা |
| ধানের জাত |
ব্রি–২৯ |
| ক্ষতির কারণ |
অতিবৃষ্টি ও বন্যাজনিত জলাবদ্ধতা |
| অর্থনৈতিক ক্ষতি |
প্রায় ৫০ হাজার টাকার কৃষিঋণ ও সম্পূর্ণ ফসলহানি |
| মৃত্যুর স্থান |
ধানখেতের জমিতেই |
| দাফনের সময় |
দুপুর, জানাজা শেষে |
স্থানীয় কৃষক দুধ মিয়া জানান, একই কারণে আরও কয়েকজন কৃষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং তারা চিকিৎসাধীন আছেন। তাঁর ভাষায়, এলাকায় অন্তত চার থেকে পাঁচ হাজার বিঘা জমির ধান পানিতে তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে।
উপজেলা কৃষি দপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে সহায়তার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে।