খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বিভিন্ন পেশাজীবী, সংস্কৃতিবিদ ও নাগরিকগোষ্ঠী নির্বাচনী ইশতেহারে নিজেদের সেক্টরের উপস্থিতি প্রত্যাশা করছেন। এবার সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে সংগীত শিল্প—যা দেশের বিনোদন অঙ্গনের একটি বৃহৎ অংশ হলেও রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘ ৫৪ বছরের ইশতেহারে কখনোই উল্লেখযোগ্যভাবে স্থান পায়নি। এই অনালোচিত অবস্থার বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন দেশের জনপ্রিয় রক ব্যান্ড মাইলস-এর প্রধান সদস্য হামিন আহমেদ।
ফেসবুকে দেওয়া এক বিস্তৃত পোস্টে তিনি সরাসরি রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দেন—
“সংগীত ও সংস্কৃতি নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?”
একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন, সুস্পষ্ট সাংস্কৃতিক ও সংগীতভিত্তিক প্রতিশ্রুতি ছাড়া এগুলোকে সমর্থন করবে না সংগীতপ্রেমী জনগোষ্ঠী।
হামিন আহমেদ লিখেছেন,
“বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে কোনো রাজনৈতিক দল সংগীত নিয়ে তাদের পরিকল্পনা ঘোষণা করেনি—অন্য সবই আছে, কিন্তু সংগীত নেই!”
তিনি মনে করেন, সংগীতপ্রেমী মানুষের সংখ্যা এত বিশাল যে এই গোষ্ঠী ঐক্যবদ্ধ হলে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর বড় চাপ তৈরি করা সম্ভব।
পোস্টের মন্তব্যে হামিন উল্লেখ করেন,
বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে কয়েক কোটি গানপ্রেমী। তরুণ-প্রবীণ সব বয়সের এই বিশাল জনগোষ্ঠী ভোটারও বটে। তাই সংগীত নিয়ে পরিকল্পনা না দিলে ভোট না দেওয়ার মত চাপ প্রয়োগের পরামর্শ দেন তিনি।
তার ভাষায়,
“এটাই নাগরিকদের ক্ষমতা—এই ক্ষমতা ব্যবহার করুন আর দেখুন কী হয়!”
হামিনের পোস্ট মুহূর্তেই সংগীতশিল্পী, সুরকার ও সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দেয়।
নানা শিল্পী এতে সমর্থন জানিয়েছেন—
বিপ্লব: “সঠিক বলেছেন।”
আয়েশা মৌসুমী: “এখনই উদ্যোগ নিতে হবে।”
শেখ ইশতিয়াক (শিরোনামহীন): “সংগীত করে জীবন কাটাতে চাই—সম্ভব না হলে বিদেশ।”
আরও শেয়ার করেছেন জন কবির, অদিত রহমানসহ অনেক সংগীতশিল্পী।
বাংলাদেশের সংগীতশিল্প দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার মুখোমুখি—
কপিরাইট সুরক্ষা
শিল্পীদের আর্থিক নিরাপত্তা
সংগীত শিক্ষার প্রসার
লাইভ কনসার্ট ও ভেন্যুর স্বল্পতা
ডিজিটাল রয়্যালটি কাঠামো
সংগীত–সম্পৃক্তদের মতে, এগুলো সমাধান করতে হলে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ও সরকারি নীতিমালা অত্যন্ত প্রয়োজন। তারা মনে করছেন, সংগীত কেবল বিনোদন নয়—এটি বাংলাদেশের সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক পরিচয়ের একটি বড় অংশ।
সারাংশ:
হামিন আহমেদের পোস্ট শুধু একটি আবেগপ্রবণ দাবি নয়, বরং সংগীতশিল্পের বড় অংশের বাস্তব চাহিদার প্রতিফলন। জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে এই দাবি রাজনৈতিক দলগুলোকে সংস্কৃতি ও সংগীত নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।