খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 23শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ৭ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, দুর্নীতি আগের তুলনায় বেড়েছে নাকি কমেছে তা নির্ধারণের জন্য তুলনামূলক তথ্য এখনও নেই। তবে তিনি বলেন, দুর্নীতি অব্যাহত আছে এবং রাজনৈতিক ও সরকারি ক্ষমতা অপব্যবহার করে বিভিন্ন মহল দলবাজি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজিতে লিপ্ত রয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত সাবেক দুদক সংস্কার কমিশনের প্রধান ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, বর্তমান সরকার আরও কঠোরভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার সুযোগ পেয়েও তা কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়েছে। টিআইবি বর্তমানে সরকারের পুরো মেয়াদ নিয়ে বিশ্লেষণ তৈরি করছে।
রবিবার বিকেলে ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে ‘সুশাসিত, বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশের অঙ্গীকার: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের ইশতেহার প্রণয়নে টিআইবির সুপারিশ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ৫৪ বছরের ইতিহাসে, বিশেষ করে গত ১৫ বছরে সৃষ্ট জটিলতা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে। তবে এখন সুযোগ এসেছে, যা রাজনৈতিক দলগুলো কতটা গ্রহণ করবে এবং তাদের কার্যপদ্ধতিতে অর্থ, পেশি ও ধর্মের প্রভাব কতটা থাকবে, তা নির্বাচনের ফলাফলের উপর প্রভাব ফেলবে।
ব্যবসা খাতের সংস্কার সম্পর্কেও তিনি বলেন, এটা রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কারের মতো। ব্যবসা খাতে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে সর্বশেষে ব্যবসায়ীরাই উপকৃত হবেন। না হলে একশ্রেণির ব্যবসায়ী সুবিধা পাবেন, অন্যরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
ভারতের সঙ্গে বর্তমান শীতল সম্পর্কের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি ভারতের জন্য একটি কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যর্থতা, কিন্তু সম্পর্ক উন্নতির সুযোগ এখনও আছে।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি আগামী নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে রাখা উচিত ৫২টি প্রস্তাব উপস্থাপন করে। এর মধ্যে আছে জুলাই জাতীয় সনদ এবং অন্যান্য সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন, অতীতের অপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত অব্যাহত রাখা, এবং নির্বাচনী ইশতেহারে সুশাসন, গণতন্ত্র, সম-অধিকার ও অন্যান্য খাতের সংস্কারের অঙ্গীকার।
উপদেষ্টা অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের ও আউটরিচ পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
খবরওয়ালা /এসএস