খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
দেশে চার শিশুর শরীরে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লু শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের বয়স এক থেকে আট বছরের মধ্যে। বর্তমানে চিকিৎসার পর সবাই সুস্থ আছেন।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরিন।
আইইডিসিআর-এর পরিচালক জানান, বাংলাদেশে এ রোগ প্রতিরোধে জোরদার গবেষণা কৌশল প্রণয়ন করেছে সরকার। এ বিষয়ে গত বুধবার আইসিডিডিআর,বি, সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, এনজিও ও আন্তর্জাতিক সংস্থার অংশীদারদের নিয়ে একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয় এবং দেশের জন্য জাতীয় গবেষণা কৌশল চূড়ান্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
সভায় এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার সংক্রমণ পর্যবেক্ষণ, ঝুঁকির কারণ চিহ্নিতকরণ, ভাইরাস-হোস্ট সম্পর্ক, প্রাণী ও মানব সংযোগ, এবং টিকার কার্যকারিতা নিরীক্ষণের জন্য আরও শক্তিশালী পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়।
এ ছাড়া সভায় বলা হয়, এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা কেবল নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশের সমস্যা নয়। ২০২৫ সালে এটি আবারও মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হচ্ছে এবং ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মতো অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিশ্বের আটটি দেশে মোট ৩০ জনের মধ্যে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে কম্বোডিয়ায় ১৪ জন, বাংলাদেশে চারজন শনাক্ত হয়েছেন।
উদ্বেগজনক দিক হলো, বাংলাদেশে ২০০৩ সাল থেকে মোট ১২ জনের মধ্যে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সাতজন শিশু ছিলেন পাঁচ বছরের কম বয়সী। ২০২৫ সালের প্রথম আট মাসেই চারজন শিশু আক্রান্ত হয়েছেন, যারা এক থেকে আট বছরের মধ্যে। এটি শিশুদের এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
আইসিডিডিআর,বির গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকা ও গাজীপুরের লাইভ বার্ড মার্কেট বা জীবিত হাঁস-মুরগির বাজার থেকে সংগৃহীত বাতাসের নমুনার ৯১% এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা পজিটিভ। এসব বাজারকে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০২৪-২০২৫ সালে এসব বাজারে পাওয়া মৃত মুরগির প্রায় অর্ধেকই এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার সাবটাইপ এইচফাইভে আক্রান্ত ছিল।
একটি সিস্টেমেটিক রিভিউর মাধ্যমে দেখা গেছে, পোলট্রি খাতে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ছড়িয়ে পড়ার প্রধান কারণ হলো সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থার বড় ধরনের ঘাটতি। এর মধ্যে অসুস্থ পাখিকে আলাদা না রাখা, বর্জ্য সঠিকভাবে নিষ্পত্তি না করা এবং পোলট্রি রাখার জায়গায় অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিধি অন্যতম।
তথ্যসূত্র: চ্যানেল ২৪
খবরওয়ালা/শরিফ